১ April ২০২৬ Wednesday ১২:৫৪:০৩ PM Print this E-mail this

আমতলীতে ক্রেতা সংকটে তরমুজচাষিরা, শতকোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

আমতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বাম্পার ফলনেও তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আমতলীর চাষিরা। ক্রেতাসংকটে তারা তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না। এতে শতকোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর আমতলীতে ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল; কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পেলে অন্তত ২৭০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মৌসুম শুরুতেই আমতলীর তরমুজ বিক্রিতে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বড় ক্রেতা না থাকায় চাষীরা স্থানীয় বাজারে তরমুজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়; কিন্তু উৎপাদিত তরমুজ আমতলী-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে কয়েক হাজার টন উদ্বৃত্ত থাকবে। এ তরমুজ নিয়ে চাষিরা মহা বিপাকে পড়েছে। 

বিগত বছরে বড় তরমুজ ব্যবসায়ীরা আমতলীর তরমুজ চরা মুল্যে ক্রয় করে উত্তারাঞ্চল নাটোর, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করত; কিন্তু এ বছর উত্তারাঞ্চলে তরমুজের চাহিদা কম থাকায় বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। ফলে তরমুজ নিয়ে মহাবিপদে পড়তে হয়েছে তাদের।  এতে আমতলীর চাষিদের অন্তত শত কোটি টাকা লোকসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তরমুজচাষিদের এমন অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস তরমুজ বিক্রিতে উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারছেন না। 

মঙ্গলবার সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজ পেকে গেলেও চাষিরা বড় ক্রেতা সংকটে তরমুজ খেত থেকে তুলছেন না। আবার অনেক চাষি তরমুজ কেটে খেতে রেখে দিয়েছেন কিন্তু বিক্রি করতে পারছেন না। 

হলদিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি আল আমিন বলেন, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি; কিন্তু ক্রেতা সংকটে তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে লাভতো দূরের কথা আসল টাকা তুলতেই পারব না।

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি মামুন মোল্লা বলেন, ৫ লাখ টাকায়  ১২ হেক্টর জমি লিজ নিয়ে ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছি। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হবে। গত বছর অনেক বড় ব্যবসায়ী তরমুজ ক্রয় করে উত্তরাঞ্চলে রপ্তানি করেছে কিন্তু এ বছর বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। স্থানীয় বাজারে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলম বলেন, অধিকাংশ কৃষক উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করেছেন; কিন্তু পাইকারের অভাব ও কম দামের কারণে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও  সবুজ খান বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ ক্রয় করছেন না। স্থানীয় বাজারে যে দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে লাভতো দূরের কথা শ্রমিকদের বেতন দিয়েই  টেকা যাবে না।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, চলতি বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে কিন্তু বাজার দর কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় অন্তত শত কোটি টাকার লোকসান হবে। চাষিদের কথা বিবেচনা করে বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভালো দামে চাষিরা যাতে তরমুজ বিক্রি করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews