কেরোসিনের কুপি। স্থানীয় ভাষায় বলে চেরাগ। চেরাগ রাখার স্ট্যান্ডকে বলে রুয়া। এছাড়া হারিকেন, টিনের ট্রাংক, পিতলের গেলাস, খাবার পাতিল রাখার বাঁশের গুচ্ছি, পানি সেচের হেইত, সুপারি খোলের গাড়ি গ্রামীণ জনপদে বেশি ব্যবহার হতো। সেগুলো কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য সামগ্রী খুঁজে এনে মেলার আয়োজন করেছে একদল শিক্ষার্থী।
রবিবার কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রামে এই আয়োজন করা হয়।
স্কুল শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণীর নাফিজা মোস্তফা আলো তার সহপাঠী নাজিফা মোস্তফা মুন, মুশফিকা মুনিরা ও আবদুল্লাহ রায়হান আরশদের নিয়ে এই আয়োজন করে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মোল্লা বাড়ির উঠানে রঙিন কাগজ কেটে সুতা দিয়ে টানানো হয়েছে। সেখানে উৎসবের আমেজ। কাগজের ব্যানারে হাতে লেখা হয়েছে, সেখানে লেখা ‘গ্রামীণ ঐতিহ্য মেলা’। সেখানে একটি কার্পেটের ওপরে সামগ্রী গুলো রাখা হয়েছে। সামগ্রীর গায়ে কাগজ দিয়ে নাম লিখে লাগানো হয়েছে। প্রতিটি সামগ্রী শিশুরা ধরে ধরে দেখছে। তারা বিস্মিত চোখে দেখছে। তাদেরকে সেগুলো কোনটা কি কাজে লাগে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন আয়োজকরা। মেলায় আগতদের বেলুন ও চকলেট দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ঐতিহ্য মেলা দেখার পর বেলুন ও চকলেট পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে তারা।
আয়োজক নাফিজা মোস্তফা আলো বলেন, আমরা গ্রামীণ ঐতিহ্য সম্পর্কে অভিভাবকদের থেকে ধারণা পেয়েছি। তাদের থেকে ধারণা নিয়ে আমরা এই আয়োজন করেছি। ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। সামগ্রী গুলো দেখে আমাদের সহপাঠীরা ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।
শহর থেকে ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা ইমাম হাছান খোকন ও কেয়া খানম বলেন, আামদের সময়ে হেইত ও দোন দিয়ে পানি সেচ দেয়া হতো। বৈদ্যুতিক পাম্প আসার পর সেগুলো হারিয়ে গেছে। এছাড়া কেরোসিনের চেরাগ ও হারিকেন ছিল আমাদের একমাত্র অবলম্বন, বিদ্যুৎ বাতি আসায় সেগুলোও হারিয়ে যায়। ছোটদের এই আয়োজন দেখে আমরা শৈশবে ফিরে গেছি। তাদের মেলা দেখে মনে হচ্ছে ওরা আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারবে।
কুমিল্লার সাংস্কৃতিক সংগঠক জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, এখন জীবনযাত্রা কত সহজ হয়ে গেছে। আমাদের সময় কত কষ্টকর ছিল! অতীত সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ঐতিহ্য মেলা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এই সব মেলা আরো বেশি করে আয়োজন করা হোক।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত