বাংলাদেশে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি হাসপাতাল নেটওয়ার্ক মনিপাল হাসপাতাল তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক চিকিৎসার সুবিধা বাংলাদেশের রোগীদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের প্রতিষ্ঠানটি।
আজ সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মনিপাল হাসপাতাল মিডিয়া সামিট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় জানানো হয়, ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত হাসপাতালটিতে ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট ফ্ল্যাগশিপ ইউনিটটি বর্তমানে ৫৩টি স্পেশালিটি বিভাগে উন্নত সেবা দিচ্ছে। ইউনিটটিতে ইতিমধ্যে এক হাজারেরও বেশি রোবোটিক স্পাইন ও অর্থোপেডিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ‘দা ভিঞ্চি’ রোবট, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের জন্য ‘মাকো’ এবং ভাসকুলার ইন্টারভেনশনে ‘করপাথ’ সিস্টেমের মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল হেলথকেয়ার সার্ভিসেস বিভাগের গ্রুপ অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বিকাশ তায়ের বলেন, বর্তমান সময়ে রোগীরা শুধু চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান না, তারা একটি নিরবচ্ছিন্ন সেবার অভিজ্ঞতা চান। আমাদের লক্ষ্য হলো রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং সমন্বিত যাত্রা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য হাসপাতালটি একটি ‘এন্ড-টু-এন্ড’ মডেল তৈরি করেছে। এর ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি ভিসা সহায়তা, যাতায়াত ব্যবস্থাপনা এবং দেশে ফেরার পর ফলোআপ সেবাও দেওয়া হবে সুশৃঙ্খলভাবে।
অনুষ্ঠানে রিজিওনাল হেড (সার্ক) রাম গোপাল বর্ধন বলেন, এআই এবং রোবোটিক চিকিৎসার খরচ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মতো। তবে এ সেবা বেশি অত্যাধুনিক ও নির্ভুল। দিনদিন আমাদের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশী রোগী বাড়ছে। যে কারণে ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায় তথ্য সেবা কেন্দ্র খুলছি।
বাংলাদেশে হাসপাতালের কার্যক্রমের সমন্বয়ক খালিদ হাসান বলেন, সারাবিশ্ব থেকে আমাদের হাসপাতালে রোগী আসলেও এরমধ্যে বাংলাদেশী রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৮ শতাংশ। সেজন্য আমরা বাংলাদেশী রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসক সহযোগিতা ও রোগী সহায়তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে জটিল ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রোগীদের আস্থার সংকট দূর হবে এবং দুই দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে পেশাদার সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ভারতের ২৬টি শহরে ৪৯টি ইউনিটের মাধ্যমে ১৬০টি দেশের রোগীদের সেবা দিচ্ছে মনিপাল হাসপাতাল।