যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয়, কাজ করার অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া থেকে বঞ্চিত করতে যে নীতিগুলো গ্রহণ করেছিল, সেগুলোকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজজন ম্যাককনেল রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্স শহরে বসে একগুচ্ছ নীতি বাতিল করেন। তার মতে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এসব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক ডজন দেশের মানুষকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।

বিচারক বলেন, এসব অভিবাসী কংগ্রেস প্রণীত আইন এবং ইউএসসিআইএসের বিধিমালা অনুযায়ী সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন। তবুও তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ ইউএসসিআইএস তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ডেমোক্রেট সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি কোনো আইনগত বা বিধিবদ্ধ ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়নি। বরং এগুলো অভিবাসীবিরোধী মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যা সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচনা করা আইনত নিষিদ্ধ। রায়ে তিনি লিখেছেন, ইউএসসিআইএস যে এসব আবেদন ঝুলিয়ে রেখেছে, তার জন্য আবেদনকারীদের কোনো দোষ নেই। বরং তাদের জন্ম যে দেশে হয়েছে, সেটিই একমাত্র কারণ।

এই রায়কে বিজয় হিসেবে দেখছেন অভিবাসী সেবা প্রদানকারী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট, যারা মার্চ মাসে ইউএসসিআইএসের গৃহীত নীতিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ইউএসসিআইএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর একটি সংস্থা। বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী উদারপন্থী আইনি সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের প্রধানস্কাই পেরিম্যান বলেন, এই রায় একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাহলো ফেডারেল সরকার বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করে দিতে পারে না এবং মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারে না। ডিএইচএস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই হামলা চালায় আফগান অভিবাসী রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল। তবে সে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তিনি সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করতে চান। পরে তার প্রশাসন পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯-এ উন্নীত করে।
পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়া। প্রশাসনের দাবি ছিল, নিরাপত্তা যাচাই ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব বিধিনিষেধ প্রয়োজন।

ম্যাককনেল বলেন, ইউএসসিআইএসের গৃহীত নীতিগুলো ওই ৩৯ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করে দেয়। যার ফলে অগণিত মানুষের জীবন কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে।

রায়ে তিনি আরও লিখেছেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু এখানে স্পষ্ট যে ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি এবং সঠিক পদ্ধতিতেও কাজ করেনি। বরং সংস্থাটি সেই অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেছে, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কংগ্রেস তাদের দিয়েছে; পাশাপাশি তারা প্রশাসনিক আইনও ভঙ্গ করেছে, যা তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews