৫৮ বছরের পুরোনো বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম তো আছেই, চিকিৎসার জন্য নেই পর্যাপ্ত কক্ষও। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০ রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ৫৩ জন। ফলে গড়ে একজন চিকিৎসককে ৪৭ রোগী দেখতে হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় একজন রোগীর জন্য ৩-৫ মিনিটের বেশি সময় দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। অথচ নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বহির্বিভাগে একজন রোগীকে চিকিৎসক অন্তত ১০ মিনিট ধরে দেখার কথা। ফলে একদিকে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না, অন্যদিকে চিকিৎসককেও চাপের মুখে সেবা দিতে হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে মোট ২১টি বিভাগে রোগী দেখা হয়। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন রোগ, অর্থোপেডিক, মানসিক, দন্ত, ফিজিক্যাল মেডিসিন, রেডিওথেরাপি ও ক্যান্সার-এই ১৩ বিভাগে প্রতিদিন রোগী দেখেন ৪৬ জন চিকিৎসক। ফলে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ থাকে।

তাছাড়া ৪৬ চিকিৎসকের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় একই কক্ষে একাধিক বিভাগের রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রোগীর উপস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো দিন বিশেষায়িত সাতজন চিকিৎসককে মাত্র চারটি কক্ষে আটটি বিভাগের রোগী দেখতে হচ্ছে। এই চারটি কক্ষে পালাক্রমে এন্ডোক্রাইনোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, লিভার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেমাটোলজি, রিউমাটোলজি ও নিউরোমেডিসিন বিভাগের রোগী দেখা হয়। ফলে একই কক্ষে বিভিন্ন বিভাগের রোগীদের সেবা দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টায় বহির্বিভাগে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসকরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেন। মাস হিসাবে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫ হাজার। ২১ বিভাগের মধ্যে কোনো কোনো বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগীরও সেবা দিতে হয়।

স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে একজন রোগীর জন্য প্রায় ১০ মিনিট সময় দেওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় একজন চিকিৎসকের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ জন রোগী দেখা সম্ভব। কিন্তু শেবাচিম হাসপাতালের কোনো কোনো বিভাগে একজন চিকিৎসককে প্রায় তিনগুণ রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

রোগীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া কঠিন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসকের সামনে যাওয়ার সুযোগ মিললেও চিকিৎসক সময় দিতে পারছেন মাত্র কয়েক মিনিট। তাতে রোগীর যথাযথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না।

বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বরিশালের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছরেও জনবল ও আবাসন সংকট কাটেনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘চিকিৎসক ও কক্ষ সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews