বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানিকে বরাবরই এমন একটি দল হিসেবে দেখা হয়, যারা মাঠে নামলে প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো করুণা দেখায় না। প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানো এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার অসংখ্য ইতিহাস রয়েছে তাদের।
চলমান বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ দিয়েছে জার্মানি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাকাওকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে দলটি। এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক রাতের স্মৃতি, যখন সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানরা।
তবে জার্মান ফুটবলের গৌরবগাঁথার আড়ালে রয়েছে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড এখনো বহন করে দলটি।
ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের। ২০ জুন সুইজারল্যান্ডের বাসেলে অনুষ্ঠিত এক ম্যাচে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী হাঙ্গেরি। সে সময় হাঙ্গেরিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দলটিতে ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার সান্দোর কোচিস ও জোলতান চিবোর।
ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় হাঙ্গেরি। জার্মান রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে একের পর এক গোল করে তারা। শেষ পর্যন্ত ৮-৩ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হাঙ্গেরি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই জার্মানির সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়।
তবে সেখানেই শেষ হয়নি গল্প। মাত্র দুই সপ্তাহ পর বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত হাঙ্গেরিকেই তখন শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার মনে করা হচ্ছিল। ফাইনালের শুরুতেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা।
কিন্তু এরপরই ঘটে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরে আসে পশ্চিম জার্মানি এবং ৩-২ গোলে জয় তুলে নেয়। সেই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে তারা।
ফুটবল ইতিহাসে ম্যাচটি আজও ‘বার্নের অলৌকিক ঘটনা’ নামে পরিচিত। একই টুর্নামেন্টে ৮-৩ গোলের লজ্জাজনক হার থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ