প্রিয় কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ জীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। এই মানসিক আঘাতকে বলা হয় ইমোশনাল হার্টব্রেক। এটি শুধু মনেই নয়, শরীরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মতো ‘ফিল গুড’ হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ফলে তৈরি হয় তীব্র মানসিক অস্থিরতা, যা অনেকটা আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সময়ের অনুভূতির মতো।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে তীব্র মানসিক আঘাতের কারণে হৃদযন্ত্রের সাময়িক সমস্যাকে Broken Heart Syndrome বা তাকোতসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি বলা হয়। এর ফলে বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, অনিদ্রা, বিষণ্নতা, শূন্যতা এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
- Advertisement -
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টব্রেক থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমেই বাস্তবতা মেনে নেওয়া জরুরি। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘন ঘন দেখা বা পুরোনো বার্তা পড়া মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়াতে পারে। তাই কিছুদিন ডিজিটাল দূরত্ব বজায় রাখা উপকারী।
এ সময় নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং হালকা ব্যায়াম মনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বই পড়া, ভ্রমণ, বাগান করা বা নতুন কোনো দক্ষতা শেখার মতো সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে মানসিক চাপ কমে এবং ইতিবাচক অনুভূতি ফিরে আসে।
তবে যদি দীর্ঘদিন বিষণ্নতা, তীব্র মানসিক কষ্ট বা বুকে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, বিচ্ছেদের কষ্ট সময়ের সঙ্গে কমে আসে। জীবনের একটি সম্পর্কের সমাপ্তি মানেই সবকিছুর শেষ নয়। নিজের যত্ন নেওয়া, পরিবার-বন্ধুদের পাশে রাখা এবং নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে নতুন শুরুর সবচেয়ে বড় শক্তি।
- Advertisement -