কিছুদিন আগেও দাদি-নানিদের কাছ থেকে গল্প শুনতে শুনতে শিশুরা খেতো অথবা দঘুম পাড়ানো হতো। আজকাল মোবাইলে কার্টুন দেখে কিংবা গেম খেলে সময় কাটে শিশুদের। শিশুরা মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মনোজগত অবিকশিত রয়ে যাচ্ছে। স্মার্টফোনের বিকিরণের ফলে শিশুরা চোখের নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের তুলনায় শহরের শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের হার অনেক বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামেও শিশুদের ইন্টারনেট আসক্তি দিন দিনই বাড়ছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন এক লাখ ৭৫ হাজার অর্থাৎ প্রতি আধা সেকেন্ডে একজন শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ২৫ শতাংশের বয়স ১০ বছরের কম। ফেসবুকসহ সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারীর বয়সই ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।

এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ছে পরিবার থেকে সমাজ তথা রাষ্ট্র পর্যন্ত। ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিবাচক কিছু দিকও রয়েছে। যদি সচেতনভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে ১৮ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিক সক্রিয় থাকার কুফলই বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট আসক্তির কারণে শিশু নানা ধরনের সমস্যায় পড়ে। যেমন- প্রথম তিন বছরে শিশুর মস্তিস্কের বড় অংশের গঠন হয়। তাই এ সময় শিশু কী শিখছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এছাড়া শিশুকে খাওয়ানোর সময় স্মার্টফোন ধরিয়ে দিলে কোনটি কী খাবার, কোন খাবারের স্বাদ কেমন, এ সব জানার বা শেখার সুযোগ পায় না সে।

কম দুরত্ব থেকে স্মার্টফোন দেখার কারণে ডিজিটাল পর্দার বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মি শিশুর চোখের ক্ষতি করে। শিশু সামাজিকতা শেখে না। কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়, কিভাবে সম্বোধন করতে হয় তা শেখার সুযোগ পায় না।

অতিরিক্ত ইন্টারনেট দেখার ফলে শিশুর মেজাজ খিটখিটে থাকে। অল্পতেই রেগে যায়। নিজের রাগ প্রকাশ করতে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর ও চিৎকার-চেঁচামেচি করে।

একটানা স্মার্টফোনে ভিডিও দেখার কারণে পড়ালেখায় মনোযোগ থাকে না।

স্মার্টফোন থেকে শিশুদের দূরে রাখতে অভিভাবক এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের যে কাজ করা বেশি প্রয়োজন, তা হলো :

শিশুকে খাওয়ানোর সময় খাবার তৈরির গল্প বলা যায়। এ সময়ে খাবার ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে শিশুর মুখে তুলে দিতে পারলে ভালো।

খাওয়ানোর সময় শিশু যখন একটা খাবারের রঙ, স্বাদ, গন্ধ, আকার দেখবে, তখন খাবার নিয়ে নিজের মতামত দিতে শুরু করবে।

সময় কাটানোর জন্য শিশুকে স্মার্ট ফোন না দিয়ে নানা ধরনের আকর্ষণীয় খেলনা বা পাজল দেয়া যেতে পারে।

শিশুর সাথে গল্প করে, তাকে নতুন বই উপহার দিয়ে, তার সাথে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে তাকে মানসম্মত সময় দেয়া দরকার।

সর্বোপরি শিশু, কিশোর-কিশোরীদের এই আসক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন তাদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া। এজন্য পরিবারের সব সদস্যকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এই সব ডিভাইসের ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝাতে হবে। ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস কেবল একটি যন্ত্র। প্রয়োজন অনুযায়ী এই যন্ত্রের ব্যবহার করতে হবে। এ যন্ত্রের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা।

সূত্র : বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews