একটি সংসার, তিন সন্তান আর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক- সবকিছু যেন এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ল। ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর কষ্টে যখন স্বামী সোহেল মিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই তাঁর স্ত্রী মাহমুদা আক্তার অন্য এক পুরুষের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন। আর এই দৃশ্যই শেষ পর্যন্ত সোহেলকে নিতে বাধ্য করেছে আবেগঘন সিদ্ধান্ত। দুধ দিয়ে গোসল করে প্রকাশ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন তিনি।
ঘটনাটি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তর কলাউড়া গ্রামে। তিন দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন তিন সন্তানের জননী মাহমুদা আক্তার।
তাঁর দাবি, একই গ্রামের তিন সন্তানের জনক ফয়েজ মিয়াকে বিয়ে করতে চান তিনি। কিন্তু স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্বামী সোহেল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মাহমুদা ও ফয়েজের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সংসারে শুরু হয় অশান্তি। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্য পুরুষের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন স্ত্রী।
শনিবার দুপুরে স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের খবর পেয়ে ক্ষোভ, অপমান আর ভেঙে পড়া হৃদয় নিয়ে সোহেল নেন অভিনব সিদ্ধান্ত। দুধ দিয়ে গোসল করে প্রকাশ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন তিনি।
সোহেলের এই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অনেকের চোখে এটি প্রতিশোধের চেয়ে বেশি- ভেঙে যাওয়া একটি মানুষের অসহায় প্রতিবাদ। যে সংসারকে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, সেই সংসারই যখন তাঁর চোখের সামনে অন্য কারও দিকে চলে যাচ্ছে, তখন দুধ দিয়ে গোসল যেন সেই সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে মাহমুদা পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। ফয়েজের বাড়ি বর্ডারের কাছাকাছি হওয়ায় চোরাকারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সে একটি মামলায় কারাগারে রয়েছে। বাড়িঘর পড়ে আছে খালি। ফয়েজের প্রথম স্ত্রীরও তিন সন্তান রয়েছে।
তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানালের ফয়েজের প্রথম স্ত্রী শিরীনা আক্তার।
এএইচ