দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখিতে লন্ডভন্ড হয়েছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানান স্থাপনা। পাশাপাশি বজ্রপাতে মারা গেছে শিশুসহ অন্তত ছয়জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝড়ে ভেঙে গেছে মোবাইল টাওয়ার, মসজিদ, ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি। বজ্রপাতে কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে নিহতের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার কসবায় কালবৈশাখিতে ভেঙে গেছে এয়ারটেলের একটি টাওয়ার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি ও ফসলি জমি। গতকাল সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ডের সামনে মোবাইল টাওয়ারটি মুহূর্তেই ভেঙে পুকুরে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে পাকা বোরো ফসলি জমির। বাতাসের তীব্র বেগে পাকা ধান ঝরে পড়াসহ গাছ ভেঙে জমিতে শুয়ে গেছে। পাকা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ায় কালবৈশাখিতে অন্তত পাঁচটি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি। উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা। গতকাল দুপুরের দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। তাঁরা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া চাকামইয়া, লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। হতদরিদ্র এসব পরিবার ব্যাপক বেকায়দায় রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ সাংবাদিকদের জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
কক্সবাজার : সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা গেছেন। গতকাল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, লবণের মাঠ থেকে চৌফলদণ্ডী ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতের শিকার হন ওই ব্যক্তি এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে এসে একজন ব্যক্তিকে বজ্রপাতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজে আসার সময়ই তিনি বজ্রাঘাতে মারা যান।
মুন্সিগঞ্জ : গজারিয়া উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (৪০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে গজারিয়া ইউনিয়নের কলসেরকান্দি গ্রামসংলগ্ন মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শাহাদাত ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে।
হবিগঞ্জ : চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের আবাদ গ্রামে রবীন মিয়া (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রবীন ওই গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে এবং চান্দপুর শামছুন্নাহার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানান, সকালে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথমধ্যে বজ্রাঘাতের শিকার হয়। তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা : কালবৈশাখির ভয়াবহ তাণ্ডবে কুমিল্লার চান্দিনায় বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে অনেক গাছপালা, বাড়িঘর। উপজেলাজুড়ে অন্তত ১০টিরও বেশি ঘর পড়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে গেছে কয়েক হাজার গাছপালা। এ সময় বজ্রপাতে নাজমা আক্তার (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে।
নোয়াখালী : কবিরহাট ও হাতিয়া উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছে। কবিরহাটে মো. আয়মান (৯) ও হাতিয়ায় আরাফাত হোসেন (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে কবিরহাটের ধানশালিক ইউনিয়নে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রাঘাতপ্রাপ্ত হয় শিশু আয়মান। সে ওই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সোমবার দুপুরে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে মাঠ থেকে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আরাফাত হোসেন নিহত হন।
স্বজনরা জানান, মায়ের চোখের সামনেই বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তিনি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বজ্রপাতে একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।