ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন বহুতল ভবনে আটকে পড়া বাসিন্দাদের দুঃসহ ও ভয়ানক অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে অনেক ভবনের দরজা-জানালা লক হয়ে যাওয়ায় বা ধসে পড়ায় নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় ছিল না সাধারণ মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে কারাকাসের বাসিন্দা মার্থা আনেজ নিজের বারান্দায় ঝুঁকে চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমরা আটকে পড়েছি! আমাদের সাহায্য দরকার! দয়া করে কেউ একজন আসুন!’
সিএনএন-এর কাছে সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে মার্থা আনেজ জানান, মূল ভূমিকম্পের পর আরও দুটি শক্তিশালী আফটারশক বা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। স্থায়িত্বের দিক থেকে সেগুলো এক থেকে দেড় মিনিট স্থায়ী হলেও তার কাছে মনে হয়েছিল যেন এই অন্তহীন কম্পন আর শেষ হবে না। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ভয়ংকর বিষয় ছিল যে আমরা বাইরে বের হতে পারছিলাম না। একপাশ থেকে হাতুড়ি পেটার শব্দ আসছিল এবং অন্যপাশ থেকে দরজায় লাথি মারার আওয়াজ হচ্ছিল। ঠিক কারা আমাদের উদ্ধার করতে এসেছিলেন তা আমি জানি না, কারণ তারা বাইরে থেকে চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ওখান থেকে সরে যান, আমরা আসছি এবং আমরা প্রায় ছয়জন আছি!’—এরপর একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। মার্থা আরও জানান, তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রথম তিনটি তলা সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
কারাকাসের আরেক বাসিন্দা এরিক মার্টিনেজ বর্ণনা করেছেন কীভাবে তিনি ওপরের তলার অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে ভেঙে পড়া ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। ঘরের ওপর একের পর এক আসবাবপত্র ও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার সময় তিনি নিজের চারপাশে আসবাব দিয়ে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর বা ব্যারিয়ার তৈরি করার চেষ্টা করেন। উদ্ধার পাওয়ার জন্য তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা যখন বুঝতে পারেন যে আমি এখনো বেঁচে আছি, তখন তারা বাইরে থেকে বলছিলেন, ‘কথা বলো, কথা বলতে থাকো’। তাদের সাড়া দিতে আমিও অনবরত কথা বলে যাচ্ছিলাম, যতক্ষণ না তারা আমাকে বের করে আনেন।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি