অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা চালুর তিন মাস পরও ৮০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী এখনো এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করছে। 

দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি’-র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মূল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালু করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সি বেশিরভাগ শিশুই আগের মতোই নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে চলেছে। তবে এই সময়ে সন্তানদের অনলাইন অভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা উলটো কমেছে।

যদিও এই সময়ে অ্যাকাউন্ট মালিকানার হার ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকে অ্যাকাউন্ট কমার বিষয়টি ‘পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য’, তা সত্ত্বেও সামগ্রিক ব্যবহারে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। 

‘ই-সেফটি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নিষেধাজ্ঞা চালুর আগে যাদের অ্যাকাউন্ট ছিল, তাদের বেশিরভাগই তিন মাস পর অ্যাকাউন্ট বজায় রাখতে পেরেছে অথবা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যকর বয়স যাচাই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়াই এর প্রধান কারণ।’ 

বয়স যাচাই না করার অভিযোগ তরুণদের 

কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এই কঠোর আইন কার্যকর করেছিল। কিন্তু গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বলছে, নিষেধাজ্ঞা চালুর আগে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি বয়স-সীমাবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত, যা তিন মাস পর কমে দাঁড়িয়েছে ৮১.৫ শতাংশে। 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ওসমো পকেট ৪পি’ আনল ডিজেআই, দাম কত?

পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ওসমো পকেট ৪পি’ আনল ডিজেআই, দাম কত?

প্রায় ৫৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন বা তারচেয়ে বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, যা নিষেধাজ্ঞার আগের পরিসংখ্যানের (৬০ শতাংশ) খুব কাছাকাছি।

অ্যাকাউন্ট ধরে রাখা শিশুদের অর্ধেকেরই দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে তাদের বয়স যাচাই করা হয়নি। অনেকে নিজের অ্যাকাউন্টে বয়স ১৬ বা তার বেশি উল্লেখ করেছে, কিংবা কিছু ক্ষেত্রে বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা ভুলভাবে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে শনাক্ত করেছে।

তদন্তের মুখে মেটা, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক 

মার্চ মাসের স্ন্যাপশট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ই-সেফটি ইতোমধ্যেই পাঁচটি বড় প্ল্যাটফর্মের নিয়ম লঙ্ঘন বা অমান্য করার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এই তালিকায় রয়েছে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউব। 

আইন অমান্যকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ই-সেফটির তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ১৬ বছরের কম বয়সিদের আটকাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ঠিক কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রমাণ দিতে বাধ্য করা যায়। 

সূত্র: জিও নিউজ 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews