চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কালবৈশাখি ঝড়। শনিবার বিকাল ও রাতের এ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম, লিচুসহ অন্যান্য ফসল। এ ছাড়া লালমনিরহাটে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারে কাটছে দুর্বিষহ দিন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলায় কালবৈশাখি ঝড়ে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমির আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এ বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিভিন্ন বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্য ফলসহ নানা ফসল। জানা যায় প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এ ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম বাগান। বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়েছে। গাছের ডাল ভাঙাসহ উপড়ে গেছে বড় বড় আমগাছ। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিচুসহ অন্যান্য ফসলের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, পাঁচ উপজেলায় গড় বৃষ্টি হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি হয়েছে সদর উপজেলায় ২০ মিলিমিটার। আমের ক্ষতি হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বলেন, এ উপজেলার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমির আম বাগান ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালবৈশাখীতে কলা, ভুট্টা, বোরোধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বিজয়নগর উপজেলায় শনিবার বিকালে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে দুটি বসতঘরসহ চারটি দোকান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপজেলার পত্তন গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায় এ ঝড়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. নূর ইসলাম জানান, বিকালে আকাশ কালো হয়ে প্রচণ্ড বেগে ঝড় আসে। তীব্র বাতাসে মনিপুর বাজারে চারটি দোকান, বড় পুকুরপাড় ও লক্ষ্মীমোড়া এলাকায় দুটি বসতঘর মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ ছাড়া ঝড়ের কারণে বেশকিছু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। লালমনিরহাট : আদিতমারীতে সম্প্রতি কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু পরিবার। কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এসব পরিবারের মধ্যে গতকাল নন ফুড আইটেম বিতরণ করা হয়। দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি লালমনিরহাট ইউনিটের উদ্যোগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নন ফুড আইটেম বিতরণ করেন সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।