বজ্রঝড়ের সময় অনেক সময় বৃষ্টির বদলে আকাশ থেকে বরফের টুকরা বা শিলা পড়ে—যা আমরা শিলাবৃষ্টি নামে চিনি। এটি আসলে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা মূলত বজ্রঝড়-এর ভেতরেই তৈরি হয়।
শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
যখন আকাশে তীব্র বজ্রঝড় হয়, তখন মেঘের ভেতরে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বাতাস (updraft) সৃষ্টি হয়। এই বাতাস বৃষ্টির ফোঁটাগুলোকে অনেক উঁচুতে ঠেলে নিয়ে যায়, যেখানে তাপমাত্রা খুব কম থাকে। সেখানে গিয়ে পানির ফোঁটাগুলো জমে বরফে পরিণত হয়।
এরপর এই বরফকণাগুলো বারবার মেঘের ভেতরে উপরে-নিচে ঘোরে এবং প্রতিবারই নতুন পানির স্তর জমে তাদের আকার বড় হতে থাকে। যখন বরফের টুকরার ওজন এত বেশি হয়ে যায় যে বাতাস আর তা ধরে রাখতে পারে না, তখনই তা মাটিতে পড়ে—এটাই শিলাবৃষ্টি।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক রিলসে যুক্ত হলো দারুণ ফিচার

শিলা কেন স্বচ্ছ বা ঘোলা হয়?
শিলার ভেতরের গঠন নির্ভর করে বরফ জমার গতির ওপর—
ঘোলা শিলা: পানি দ্রুত জমে গেলে ভেতরে বাতাস আটকে যায়, ফলে শিলা সাদা বা ঘোলাটে দেখায়।
স্বচ্ছ শিলা: ধীরে জমলে বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে, তাই শিলা কাচের মতো স্বচ্ছ হয়।
শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি
শিলাবৃষ্টি শুধু মজার ঘটনা নয়, এটি অনেক সময় বিপজ্জনকও হতে পারে। বড় আকারের শিলা ঘরবাড়ি, গাড়ির কাচ, ফসল এমনকি উড়োজাহাজেরও ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত বড় শিলা মানুষ ও পশুপাখির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
বিশ্বের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি বেশি হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা, কলোরাডো ও ওয়াইওমিং অঞ্চলকে ‘হেইল অ্যালি’ বলা হয়, কারণ সেখানে বছরে গড়ে ৭–৯ দিন শিলাবৃষ্টি হয়।
সংক্ষেপে, শিলাবৃষ্টি হলো মেঘের ভেতরের শক্তিশালী বাতাস ও ঠাণ্ডা তাপমাত্রার সম্মিলিত ফল—যা প্রকৃতির এক চমৎকার কিন্তু কখনো কখনো ভয়ংকর রূপ।