গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাটির নিচ থেকে ৯৬টি শক্তিশালী মাইন উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধার হওয়া মাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন। পরে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের মধুগাড়ী নদীর তীরবর্তী এলাকায় উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাস্তা সংস্কারের সময় পাশের একটি উঁচু জায়গা থেকে কাটা মাটি রাস্তায় ফেলা হয়। পরে বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গেলে প্লাস্টিকের একটি টুলবক্স ও কয়েকটি মাইন সদৃশ বস্তু চোখে পড়ে স্থানীয়দের। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জানানো হলে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের নেতৃত্বে মেজর তরিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে মাটির নিচ থেকে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং একটি প্লাস্টিকের টুলবক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাইনগুলো মধুগাড়ী নদীর তীরবর্তী নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর হোসেন টকি জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের ব্যাংগাড়ির মাঠ এলাকায় তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তার ধারণা, পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ কিংবা কৌশলগত প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে ওই সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
দীর্ঘ কয়েক দশক মাটির নিচে থাকা বিপুলসংখ্যক বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর দ্রুত অভিযানে সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো মাইনগুলো শনাক্ত ও অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।