ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহীনের অফিসে এক ব্যক্তিকে আটক রেখে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাসার সামনে পৌঁছে দেওয়া হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহীনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. নিজাম উদ্দিন অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে ১ নম্বর আসামি হিসেবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহীনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. ওসমান, কদর, ইউসুফ সরদার, মো. রানা, সৌরভ, মো. রনি ও সাদ্দাম। তারা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফয়েজ আহমেদ শাহীনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু বহিষ্কার আদেশে স্বাক্ষর করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, নিজাম উদ্দিন ২০২০ সাল থেকে হাসনাবাদ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএর একটি বাগান দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি বাগান পাহারার ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হাসনাবাদ লাজফার্মার গলির একটি চায়ের দোকান থেকে ৫-৬টি মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে কামুচানশাহ মাজার রোডে শাহীনের অফিসে নেওয়া হয়।

নিজাম উদ্দিনের দাবি, অফিসের একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত মারধর করা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পোশাক পরিবর্তন করিয়ে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত শাহীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু ব্যক্তি পাওনা টাকা আদায়ের জন্য নিজাম উদ্দিনকে তার অফিসে নিয়ে আসেন। যারা নিয়ে এসেছেন তারাই মারধর করেছে, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআই ফরহাদকে দেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews