চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের এক যাত্রীর ডান চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আহত ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬)। গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
শ্যামল চন্দ্র দাস জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মৃত নীপেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক মনার সঙ্গে জরুরি কাজে ঢাকায় যান শ্যামল। একই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের ‘ন’ বগিতে চেপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন তারা। বগির জানালার পাশের ৩৩ নম্বর আসনে বসেছিলেন সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক, আর তার পাশের ৩৪ নম্বর আসনে শ্যামল। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি আশুগঞ্জের তালশহর এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার থেকে দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। একটি পাথর সরাসরি শ্যামলের ডান চোখে লাগে এবং তাৎক্ষণিকভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে ট্রেন থামলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখটি সৌন্দর্যের কারণে রাখা হলেও এতে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না।
আহতের ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস জানান, বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর শ্যামল চন্দ্র দাস ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। আগামী রোববার পুনরায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককে দেখাতে হবে।
আহত শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে ট্রেন তালশহর পৌঁছালে অন্ধকার থেকে ছোড়া একটি পাথর আমার ডান চোখে লাগে। এরপরই রক্ত বের হতে শুরু করে।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘দুই দিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেলপথে প্রায়ই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে থাকে।