এমিলিয়া ক্লার্ককে বিশ্বের কোটি দর্শক চেনেন ‘ড্রাগনের মা’ হিসেবে। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি ছিল না কোনো কাল্পনিক রাজ্যের জন্য। সেটি ছিল নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াই। মাত্র ২২ বছর বয়সে, যখন তাঁর অভিনীত ‘গেম অব থ্রোনস’ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে শুরু করেছে, তখনই আচমকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেন হেমারেজ) আক্রান্ত হন তিনি। এরপর আবার ২৪ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো একই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। আজ, প্রায় ১৫ বছর পর, এমিলিয়া ক্লার্ক বলছেন—‘বেঁচে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
খ্যাতির শিখরে ওঠার আগেই মৃত্যুর মুখোমুখি
২০১১ সাল। সদ্য সম্প্রচার শুরু হয়েছে ‘গেম অব থ্রোনস’-এর প্রথম মৌসুম। অজানা এক তরুণী অভিনেত্রী রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত হচ্ছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই একদিন জিমে ব্যায়াম করার সময় অসহনীয় মাথাব্যথা অনুভব করেন এমিলিয়া। পরে হাসপাতালে জানা যায়, তাঁর মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম ফেটে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া বাঁচার সম্ভাবনা ছিল না।
অস্ত্রোপচার সফল হলেও সামনে অপেক্ষা করছিল দীর্ঘ পুনর্বাসন। স্মৃতিশক্তি হারানোর ভয়, কথা বলতে না পারার আতঙ্ক—সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার ক্যামেরার সামনে ফিরে যান। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল সব ঠিক আছে। কিন্তু সত্যিটা ছিল ভিন্ন।