বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। তবু লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সে বয়সের ছাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মাঠে তার প্রভাব এতটুকু কমেনি, প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামলেই গড়ছেন নিত্য-নতুন কীর্তি।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে আবারো প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার বিশ্বাস, মেসি নিজে যতদিন খেলতে চাইবেন, ততদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবেই থাকবেন।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এখন পর্যন্ত আট গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন তিনি। আছে একটি অ্যাসিস্টও।
সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেসি। আগামীকাল রোববার সকালে কানসাস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তারা।
তার আগে মেসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। বলেন, ‘লিওর পারফরম্যান্স আমাকে মোটেও অবাক করে না। তাকে যারা চেনে না, তারা ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে এসে সে আর আগের মতো খেলতে পারবে না।’
‘কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আবারো বলছি—ও যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ই থাকবে। আমি আর্জেন্টিনার কোচ বলেই এটা বলছি না, একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবেও একই কথা বলব।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্টই জানিয়ে দেন, বয়স বাড়লেও মাঠে তার অধিনায়কের ফিটনেস নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।
‘লিও প্রায় প্রতি ম্যাচেই একই মাত্রায় দৌড়ায়। ফিটনেস কোচের সাথে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে, ও তার সুফলও পাচ্ছে। আমার মনে হয় না, আগের তুলনায় তার দৌড়ানোর পরিমাণে খুব একটা পরিবর্তন এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে সুযোগ দেখলেই সে যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়।’
অন্য দলগুলোর তুলনায় শেষ আটের লড়াইয়ে কাগজে-কলমে কিছুটা সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ দেখছেন না স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘ফুটবলে সহজ কোনো প্রতিপক্ষ নেই।’
‘সুইজারল্যান্ড অত্যন্ত সংগঠিত ও শক্তিশালী দল। তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও সমানতালে লড়াই করে। তাদের অভিজ্ঞতা আছে, শারীরিক সক্ষমতাও দারুণ। তাই কঠিন একটি ম্যাচের জন্যই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’