ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙেছে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে। আর সেই হারের পর আবেগঘন এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিলেন সেলেসাও তারকা নেইমার জুনিয়র। যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে তার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই মাঠেই যেন শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত রেখে গেলেন তিনি।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি নেইমার, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো দাবি করেছেন, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।
রোমানো তার পোস্টে লেখেন, ‘ব্রেকিং: নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে গেছেন।’ একই সঙ্গে তিনি নেইমারের আবেগঘন বক্তব্যও প্রকাশ করেন। সেখানে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই তা শেষ হলো। সবকিছু এখন শেষ।’
২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেকের পর চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে গড়েছেন অসংখ্য কীর্তি। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রৌপ্য জয়ের পর ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো ফুটবলে অলিম্পিক স্বর্ণপদক এনে দেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের জার্সিতে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন। ফলে তার সম্ভাব্য বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে চলতি বিশ্বকাপে নিয়মিত একাদশে জায়গা হয়নি নেইমারের। তিনি মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের পর নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে আসরে নিজের একমাত্র গোলটি করেন।
তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে হার এড়াতে পারেনি। নেইমারের সম্ভাব্য বিদায়ের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে।