স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পার হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সকাল ১০টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পল্টন, প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সিবগাতুল্লাহ বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার আজ ৫৫ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু বারবার যে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় এসেছে, তারা স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে।" গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান সরকার সেই গণরায়কে উপেক্ষা করছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চক্রান্ত চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ অতীতের গুমের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিন। জনগণের ইচ্ছা সংবিধানের চেয়ে বড়, তাই জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেবেন না।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং মানুষের নিরাপত্তা নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বেড়ে চলেছে, চাঁদা না দিলে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী র্যালিতে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।