বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করতে চায়, যাতে রাষ্ট্রের ওপর থেকে চাপ কমে এবং সরকার শুধু উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহে মনোযোগ দিতে পারে।
তিনি বলেছেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে গেলে রাষ্ট্রের দায় কমবে। ভারতের মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স, দিল্লিতে আদানি বিদ্যুৎ বিতরণ করে। বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, খুচরা পর্যায়ে সরকারের ব্যবসা পরিচালনা করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সরকারি খরচে আর কিছু না করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, পুরো দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে। গত ১৭ বছরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে। খুলনায় তিনটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র বসে আছে। আবার গ্যাস আমদানির প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হয়নি। একটি এলএনজি টার্মিনালে গতকাল (মঙ্গলবার) আগুন লেগেছে, এতে করে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সরকার এগুলো সামলে নিচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এদের সার্বভৌম গ্যারান্টি আছে। তাই রাষ্ট্র তাদের বিল দিতে বাধ্য। জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েই সরকার কাজ করছে, কিন্তু এটা কঠিন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিকল্প উৎস থেকে আনতে গেলে দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এত দামে কিনতে গেলে বাজেটের ভর্তুকি বরাদ্দ ছাড়িয়ে যাবে। এমনিতেই বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করছে সরকার। বকেয়া শোধ করতে আলাদা কমিটি করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশে আরও গ্যাসের মজুত থাকতে পারে কি না তা নিশ্চিত হতে ব্যাপক জরিপ প্রয়োজন, যা এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি জ্যঁ পেম জ্বালানিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করে জানান, দেশের গ্যাস, তেল ও কয়লার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেন, গ্যাস-সংযোগ না পাওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে এবং বিদ্যুতের অনির্ভরযোগ্যতা শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে ওষুধশিল্পে। ব্যাংক প্রতিনিধিরাও জানান, গ্যাস-সংকটের কারণে তাদের বিপুল অঙ্কের ঋণ বিনিয়োগ আটকে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁকা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে সমন্বিত সংস্কারের কথা বলেন। সবার অভিমত, আমদাননির্ভরতা কমানো ও দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান জোরদার না করলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে।