ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মানেই গতির লড়াই আর গোলের রোমাঞ্চ। এই আসরে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা মানেই ফুটবল ইতিহাসের অমরত্বের পথে এগিয়ে যাওয়া। বছরের পর বছর ধরে মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে এই তালিকার রাজত্ব এখন পর্যন্ত নিজের দখলে রেখেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে জড়িয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪০টি গোল করে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছেন।
তবে এই দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই আধুনিক ফুটবলের খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা এবং পিএসজির হয়ে মাঠ কাঁপানো এই আর্জেন্টাইন তারকা ১২৯ গোল নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম দুই খেলোয়াড় হিসেবে শত গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার অনন্য রেকর্ডটিও এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দখলে।
তবে একক কোনো ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের কীর্তিতে রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। বার্সেলোনার জার্সিতে তার করা ১২০টি গোল এখনো ফুটবল ইতিহাসের এক অমলিন রেকর্ড।
আধুনিক ফুটবলের এই দুই মহাতারকার রাজত্বের মাঝেই সম্প্রতি নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোল উৎসব করার পর বর্তমানে বার্সেলোনার হয়েও নিজের ছন্দ ধরে রেখেছেন তিনি। তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শত গোলের অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়ে তিনি এখন এককভাবে তালিকার তৃতীয় সেরা গোলদাতা। তার ঠিক নিচেই নব্বই গোল নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা করিম বেনজেমা এবং ৭১ গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছেন রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি রাউল গনজালেস।
পুরনো রেকর্ডগুলোর ভিড়ে অবশ্য বর্তমান সময়ের তরুণ তুর্কিদের পদধ্বনিও শোনা যাচ্ছে বেশ জোরালোভাবে। কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড যে অবিশ্বাস্য গতিতে গোল করে চলেছেন, তাতে খুব দ্রুতই সর্বকালের সেরাদের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে হালান্ডের গোলের গড় যেভাবে বাড়ছে, তাতে রোনালদো-মেসির দীর্ঘদিনের আধিপত্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
তবে গোলের সংখ্যার বিচারে বর্তমানে শীর্ষে থাকলেও গোলের হারের দিক থেকে এখনো পুরনো দিনের নায়ক আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি আধুনিক ফুটবলারদের পক্ষে। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই গোলযুদ্ধ প্রতি বছরই নতুন কোনো রোমাঞ্চকর গল্পের জন্ম দিচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল