ভোলার তজুমদ্দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ও শ্রমিক দলের দুই নেতার অনুসারীদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন ও উপজেলা যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার হাসপাতালের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় উভয় গ্রুপ পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছেন।
আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও একজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তারা হলেন আল-আমীন (২৫), মো: নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), রুবেল (৩৫)। তাদের মধ্যে আল-আমীনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন বলেন, ‘২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা আমার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা আমাকে মারপিট করে বিবস্ত্র করে। পরে ২০১৮ সালে স্লুইজঘাটে সাবেক শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের তালুকদার মার্কেটে একটি দোকান নিই। ২০১৯ সালে বিস্ফোরক আইনে দায়ের মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় দোকানের চাবি সবুজ তালুকদারের কাছে রেখে যাই। আদালত আমাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করলে আমি এক মাসেরও বেশি সময় জেল খেটে কারামুক্ত হয়ে জানতে পারি আমার দোকানের সব মালামাল সবুজ ও তার ভাই রিয়াজ মিলে লুট করে নিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমি সবুজের কাছ থেকে আমার পাওনা বুঝে নেয়ার উদ্যোগ নিই। এ সময় এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে গিয়াস ও মিজান আমাকে বাধা দেয়ায় সবুজের কাছ থেকে আমার লুট করা মালামালের হিসাব বুঝে নিতে পারিনি। ৬ জানুয়ারি সবুজ তালুকদারকে ধরতে শশীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ মাথায় গেলে গিয়াস ও মিজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করে।’
যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘৬ জানুয়ারি দুপুরে ইকবাল হোসেন লিটনসহ তার অনুসারীরা দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে গালিগালাজ করে মারপিট করে। এ সময় রুবেল বাধা দিলে তারা রুবেলকে মারপিট করে। পরে দক্ষিণ বাজারের লোকজন তাদেরকে প্রতিহত করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আমাদের রুবেল, ইলিয়াছ ও আবু সাইদসহ কয়েকজন আহত হয়।’
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সালাম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’