ঐকমত্যের ভিত্তি কী

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সুপারিশগুলো নিয়ে এসেছি। চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা শুধু বোঝাব কেন সংস্কার প্রয়োজন এবং কীভাবে সংস্কার করা যায়। বাকিটা আপনাদের কাজ।’

একটি বিষয়ে আমার খুব কৌতূহল ছিল—কোনো বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের ভিত্তি বা কাঠামোটা কী হবে। এটা নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের কোনো কোনো সদস্যের মত জেনেছিলাম। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসে ১০ মার্চ (২০২৫)। সেদিন এলডি হলে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঘোষণা দেয়, সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করা এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছে একটি ‘জাতীয় সনদ’ তৈরি করতে চায় কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে আমি জানতে চাইলাম, কোনো সুপারিশের বিষয়ে কটি দল একমত হলে জাতীয় ঐকমত্য হয়েছে বলে ধরা হবে, এমন কোনো কিছু নির্ধারণ করা হয়েছে কি না?

জবাবে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছিলেন, এখানে শুধু সংখ্যা বিবেচ্য বিষয় নয়। তাঁরা অবশ্যই অধিকাংশ দলের মতকে প্রাধান্য দেবেন। কিন্তু সংখ্যার বিবেচনা যেমন আছে, তেমনি এটাও বিবেচনা করতে হবে যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান এবং শক্তির প্রভাব সমাজে আছে। তবে কমিশন পূর্বনির্ধারিত কোনো ধারণা থেকে অগ্রসর হচ্ছে না। শুধু টিক চিহ্নের ওপরও তাঁরা নির্ভর করছেন না, আলোচনার মাধ্যমে অনেক বিষয়ে একমত হওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। সে ক্ষেত্রে সংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোকে একমতে আনতে পারলে সেটাই হবে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়।

কোনো বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হলো, কিন্তু বিএনপি একমত হলো না, সে ক্ষেত্রে সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করেন কি না; এমন একটি প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেছিলেন, সংখ্যাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়; কিন্তু সংখ্যা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুটো বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এক জায়গায় এসে জাতীয় সনদ তৈরি করতে হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews