সারা দেশে গ্যাসের সংকট কয়েকদিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে অনেক, বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শিল্প উৎপাদনও। এমন অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে নতুন আরেকটি সংকট তৈরি হওয়ায় চিন্তায় পড়েছে নীতি-নির্ধারকরা। বৈরী আবহাওয়ায় সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি কার্গো সংযুক্ত করতে না পারায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দুদিন ধরে কম সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অবস্থায় কক্সবাজারে মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করতে এটি টানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে। এটি হলে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তবে কখন এই টার্মিনাল বন্ধ করা যাবে তা নিয়ে দুচিন্তায় জ্বালানি বিভাগ। কারণ এমনিতে গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে। এর মধ্যে আবার একটি টার্মিনাল টানা তিন দিন বন্ধ থাকলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে সারা দেশে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত মঙ্গলবার এক সেমিনারে বলেছেন, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল কবে বন্ধ করা যায় এটি নিয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে এটি একবার বন্ধ করতে হবে। যাতে করে পুরো টার্মিনাল চালু করা যায়।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগে। এরপর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে ২১৩ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। ৫ আগস্ট রাতে এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়েলার চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বাকি একটি বয়েলার এখনো চালু করা যায়নি। সেই বয়লার চালু করতে এখন এক্সিলারেট পুরো টার্মিনাল ৩ দিনের জন্য বন্ধ করতে চাইছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের এলএনজি টার্মিনালে সৌদি আরামকোর এলএনজি কার্গো ভিড়ানো যাচ্ছে না। এ কারণে এই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ একেবারে কমে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে আজ বুধবার সন্ধ্যায় আরামকোর কার্গো সংযুক্ত হতে পারে টার্মিনালে। এরপর সরকার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস, কয়লা ও তেলের অভাবে সারা দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সারা দেশে গতকাল দুপুর ১২টায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটু গরম পড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা হু-হু করে বাড়ছে। তা সামাল দিতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। তাই আপাতত বৃষ্টি ছাড়া এই লোডশেডিং থেকে রক্ষা নেই।