শনিবার জেরেমি ডকুর দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সে ম্যানচেস্টার সিটি ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে সিটি টিকে রইল ভালোভাবেই।
পেপ গার্দিওলার দল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রায় এক ঘণ্টা ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। তারপর ডকুর একটি চমৎকার গোল দলকে এগিয়ে দেয়। এরপর আর্লিং হাল্যান্ড এই মৌসুমে তার ২৬তম লিগ গোল করেন। শেষ মুহূর্তে ওমর মারমুশ তৃতীয় গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের পর সিটি শীর্ষে থাকা আর্সেনালের মাত্র দুই পয়েন্ট পেছনে চলে এসেছে। এতে মিকেল আর্তেতার দলের ওপর চাপ বেড়েছে। রোববার আর্সেনালকে তলানির দিকে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে জিততে হবে।
সোমবার এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র হওয়ার পর শিরোপার ভাগ্য আর্সেনালের হাতে চলে গিয়েছিল। সিটি তাদের ভুল শুধরে শনিবার ঘুরে দাঁড়াল।
ব্যবধান কমলেও লিগের লাগাম এখনও গুনারদের হাতেই আছে। আর্সেনাল যদি বাকি ম্যাচগুলোতে জিততে পারে, তাহলে তারা ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলবে। তাদের হাতে এখনও ওয়েস্ট হ্যাম, বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচ আছে।
বুধবার গার্দিওলার দল প্যালেসের বিপক্ষে ঘরে খেলবে। এরপর ১৬ মে চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনালে মাঠে নামবে সিটি।
ম্যাচের শুরুতেই ডকু গোলরক্ষক কেলেহারকে একটি কঠিন সেভ করতে বাধ্য করেন। অন্যদিকে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা প্রায় বড় ভুল করে বসেছিলেন। মাইকেল কায়োদের লং থ্রো ধরতে গিয়ে তিনি গড়মিল করলে বল গোললাইন থেকে কোনোরকমে সরানো হয়। দোনারুম্মার এই নড়বড়ে শুরু পুরো প্রথমার্ধে সিটির দুর্বল খেলার ছবি তুলে ধরে।
ডকুর ক্রস থেকে হাল্যান্ড গোল থেকে মাত্র ছয় গজ দূর থেকে হেড করেন, কিন্তু বল উপরে-বাইরে চলে যায়। পরে ডকুর কাটব্যাক থেকে হাল্যান্ড কাছ থেকে শট নেন, কেলেহার সেটা ঠেকান। নাথান আকে রিবাউন্ড থেকে গোল করতে পারেননি।
বার্নার্দো সিলভা বড় শাস্তি থেকে বাঁচলেও নাথান কলিন্সকে লাথি মারার জন্য হলুদ কার্ড পান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সিটির ছন্দ ছিল না। ইগর থিয়াগোর লো ড্রাইভ সেভ করতে হয় দোনারুম্মাকে।
দলকে চাঙ্গা করতে গার্দিওলা মারমুশ ও ফিল ফোডেনকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিক ফল দেয়।
৬০ মিনিটে ডকু ব্রেন্টফোর্ডের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এভারটনের বিপক্ষে ডকু দুটি চোখ জুড়ানো কার্লিং শট করেছিলেন। শনিবারও তিনি একই ধরনের শট নেন। তার প্রথম শট আটকানো হলে রিবাউন্ড নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার বাম দিক থেকে বল টপ কর্নারে ঢুকিয়ে দেন। শেষ তিন ম্যাচে এটি ডকুর চতুর্থ গোল।
ফোডেনও প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু কেলেহার তার কাছের শট ঠেকিয়ে দেন। পেছনে ঝুঁকি ছিলই, কেভিন শেড নুনেসের সংস্পর্শে পেনাল্টির আবেদন করেন, কিন্তু রেফারি সাড়া দেননি।
৭৫ মিনিটে হাল্যান্ড সিটির স্নায়ুচাপ কমান। আঁতোয়াঁ সেমেনিওর ক্রস থেকে তার প্রথম শট ঠেকে গেলে রিবাউন্ড হিল-কিকে গোলে পাঠান।
যোগ করা সময়ে মারমুশ পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে শান্ত ফিনিশে তৃতীয় গোল করেন। এতে সিটির গোল ব্যবধানও বাড়ে, যা এখন আর্সেনালের চেয়ে মাত্র একটি কম।