বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আবারও বিক্ষোভের মুখে পড়েছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম এলাকা। বুধবার রাতে স্টেডিয়ামের আশপাশে জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান শত শত বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই ছিলেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও স্বজন। তাদের অভিযোগ, মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মানুষ রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা অপরাধী চক্রের হাতে অপহরণ কিংবা হত্যার শিকার হয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। দর্শকদের আগমনের আগে স্টেডিয়ামের চারপাশে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হবে, তবে কেবল বৈধ টিকিটধারীরাই স্টেডিয়াম এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপ। এরপরই মাঠে নামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ফুটবল উৎসবের আবহের মধ্যেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বিক্ষোভকারী। তাদের একজন মারিয়া দে জেসুস সোরিয়া আগুয়ায়ো। প্রায় এক দশক আগে ভেরাক্রুজ অঙ্গরাজ্যে তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিনি এখনও তার খোঁজ করে চলেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম শুধু ফুটবল নিয়েই ভাবছেন। একের পর এক মানুষ নিখোঁজ হচ্ছে, কিন্তু তিনি কিছুই করছেন না।'বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে পুলিশের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় ক্রুশের আকৃতিতে রঙিন ‘সেম্পাসুচিল’ ফুল সাজিয়ে রাখেন। মেক্সিকান সংস্কৃতিতে মৃতদের স্মরণে এই ফুল বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিক বিক্ষোভের মুখে রয়েছে মেক্সিকো সরকার। বিশেষ করে উন্নত কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews