নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত হলুদবিহার গ্রামে ছয় মাস ধরে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা জোবেদা বেগম (৮০)। দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙে যাওয়ার পর বয়সজনিত জটিলতা ও অর্থাভাবে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় হাতটি আর সেরে ওঠেনি। দুই দফা প্লাস্টার করানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি।
বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে জোবেদা বেগম এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। কাউকে চোখে দেখতে না পারলেও কণ্ঠ শুনে চিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিবেশীদের জানান, প্রতিদিন রাত নামলেই ভাঙা হাতের তীব্র ব্যথায় তার কান্না ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
এই অবস্থার খবর পেয়ে বৃদ্ধা জোবেদা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ বদলগাছী উপজেলা শাখা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংগঠনটির সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ অর্থ ও শীত নিবারণের জন্য একটি কম্বল তুলে দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জোবেদা বেগম। চোখে না দেখলেও কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার আবেগ নিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদের ভালো করুক বাবা। তোমরা আমার পাশে দাঁড়াইছো— এইটাই অনেক।
জোবেদা বেগমের স্বামী বহু বছর আগে মারা গেছেন। তার তিন ছেলে ভ্যানচালক। সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে আগেই। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতেও হিমশিম খেতে হয়। ফলে দিনের পর দিন বাড়ছে তার কষ্ট।
প্রতিবেশী মাকছুদা বেগম, মোরশেদা বেগম ও উজ্জ্বল হোসেন জানান, এই বৃদ্ধার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অসহায় মানুষের খোঁজ কেউ নেয় না। আমাদের আর্থিক অবস্থাও অত ভালো না। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের যার যে সামর্থ সে অনুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করি। বসুন্ধরা শুভসংঘ যে পাশে দাঁড়িয়েছে— এটা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য মানবিক কাজ। গরিব মানুষ আজও বাঁচার স্বপ্ন দেখে এমন কিছু মানুষের আশাতেই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ বদলগাছী উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া, বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন মুসা, শুভসংঘের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ এমদাদুল হক দুলু, শুভসংঘের সদস্য আতোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন বাদল ও অন্যান্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের নেতারা জানান, সমাজের অসহায়, মানুষ মানুষের জন্য, আর মানবিক সহানুভূতিই পারে অসহায় জীবনে একটু স্বস্তির আলো জ্বালাতে। দুস্থ ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। জোবেদা বেগমের মতো অসংখ্য মানুষ এখনো নিঃশব্দে কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছেন— তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন