যুগান্তরে ‘আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে বিচার বিভাগ। বিষয়টি তদন্তে গঠিত জুডিশিয়াল কমিটি ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত মামলা দায়েরের সুপারিশও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ প্রতিবেদন পাবার পর করণীয় বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর পিপি, জেলা পিপি, পুলিশ প্রতিনিধি, জেলখানার প্রতিনিধি এবং প্রতিবেদন অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। সভায় আলোচকরা অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোকে সঠিক মর্মে আখ্যা দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত মামলার পরামর্শ দেন।
মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের নির্দেশে ৩০ মার্চ গঠিত ৩ সদস্যের কমিটি ভুয়া ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রেকর্ড জালিয়াতিসহ অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখে। তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। সুপারিশে বলা হয়েছে, রেজিস্টার যাচাই ছাড়া কোনো ওয়ারেন্ট গ্রহণ বা রিলিজ করা যাবে না। আদালতের কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ রিসিভ শাখায় ওয়ারেন্ট জমা দিতে পারবে না। জিআর শাখা সরাসরি কোনো ওয়ারেন্ট বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া, ওয়ারেন্টের তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে সংরক্ষণ ও সিডিএমএসে অন্তর্ভুক্ত বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ ওয়ারেন্ট ফেরত দিয়ে সঠিক নথি সংগ্রহের নির্দেশও রয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ৮টি ভুয়া ওয়ারেন্টের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে অতীতের ভুয়া ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ওয়ারেন্ট যাচাই করে সিডিএমএসে এন্ট্রি নিশ্চিত করা, আসামি এন্ট্রি ও রিলিজে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু এবং হাজতখানায় সিসি ক্যামেরার আওতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিমাসে ওয়ারেন্ট ইস্যু ও রিলিজের হিসাব আদালতে দাখিলের কথাও বলা হয়েছে। সিএমএম আদালতের রেকর্ডকিপারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিআর মিস শুনানির দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ৩০ মার্চ যুগান্তর ‘আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ বিচারিকের সিল-স্বাক্ষর জাল, ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামিদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আমলে নিয়ে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা উদ্ঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত কমিটিকে আদেশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ, যুক্তিযুক্ত ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।