ছবির উৎস, Atta Kenare / Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক বাহিনীর টহলের দৃশ্য, ২০১৯ সালে তোলা ছবি
Author,
বিবিসি নিউজ ফার্সি ও ওয়ার্ল্ড সার্ভিস গ্লোবাল জার্নালিজম
৪২ মিনিট আগে
পড়ার সময়: ৮ মিনিট
হরমুজ প্রণালী "কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে"- ইরানের তরফে সোমবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি সে দেশের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এই সতর্কবার্তা জারি করেন।
তিনি বলেছিলেন, "ওদের এই অঞ্চলে আসা উচিত নয়। ওরা নিশ্চিতভাবে আমাদের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া পাবে"।
সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে হরমুজ প্রণালী মাত্র ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের উপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে ওই দাম প্রায় নয় শতাংশ বেড়েছে।
নতুন তথ্য বলছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য সুপারট্যাংকার ভাড়া করার খরচ গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা প্রতিদিন চার লাখ ডলারেরও বেশি এবং এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স-এর সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, "তেলের দামের উপর প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে বলা যায়, ওই প্রণালী বন্ধ রাখলে স্পষ্টতই একটা অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হবে"।

ছবির ক্যাপশান,
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রুট
ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা 'ভর্টেক্সা'-র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট (প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত কম ঘনত্বের তরল) এবং জ্বালানি এই প্রণালী ব্যবহার করে গ্রাহক দেশগুলোতে পাঠানো হয়।
এই অঙ্কটা প্রতি বছর সমুদ্রপথে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্যের সমান। সাপ্লাই চেন অপারেশন্স বা সরবরাহ শৃঙ্খল কীভাবে কার্যকর করে তোলা যায়, তার পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা।
ইরান-সহ 'অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস' (যা পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর আন্তঃসরকারি সংস্থা)-এর অন্যান্য সদস্য দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাক কিন্তু এশিয়ায় তাদের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই রফতানি করে।
এই জলপথে যেকোনো ব্যাঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব দেখা দিতে পারে, যার তাৎক্ষণিক প্রভাব গিয়ে পড়বে তেলের দামের উপর।

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
ইরান এর আগেও বহুবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে- ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Stocktrek / Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
স্যাটেলাইট থেকে নেওয়া হরমুজ প্রণালীর ছবি
ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটা চ্যানেল হরমুজ প্রণালী। এর ঢোকা এবং বেরনোর অংশ ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মাঝে সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এই প্রণালীর বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
হরমুজ প্রণালীর কেন্দ্রীয় অংশটা বড় জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীর।
ভারী তেল ট্যাংকারগুলোর কথা মাথায় রেখে সামুদ্রিক নেভিগেশন চার্টে একটা নিরাপদ ইনবাউন্ড লেন, একটা নিরাপদ আউটবাউন্ড লেন এবং এই দুইয়ের মাঝে একটা বাফার জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই, বড়সড় জাহাজগুলকে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটা চ্যানেল ধরে চলাচল করতে হয়।
ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ঢোকার সময়, ইরান এবং আরব দেশগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রেটার এবং লেসার তুন্ব দ্বীপপুঞ্জকে অতিক্রম করে। এই অঞ্চল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সমুদ্রে যান চলাচল ব্যাহত করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সম্ভাব্য পদ্ধতি সামরিক অভিযান বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ঠিক এটাই ঘটেছিল।

ছবির উৎস, Gallo Images via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্বে তা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইরানের কাছে এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সমান। এটা ইরানের কাছে 'প্রতিরোধ ক্ষমতা' বলে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে।
একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো এই বিষয়টাও অনেক আগে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তেহরানকে সে দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে দেবে না।
বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই অনুমান করেন ইরান হয়তো সাময়িকভাবে এই প্রণালী বন্ধ করতে পারে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অনেকে আবার একথাও বিশ্বাস করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো সামরিক উপায় ব্যবহার করে সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আবার পুনর্বহাল করতে পারবে।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
১৯৮৭ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় গ্রীক নিবন্ধিত ট্যাংকার অ্যাড্রিয়ান্ডে আক্রমণ করেছিল ইরান
ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে পারে সে বিষয়ে ২০১২ সালে প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটা প্রতিবেদন থেকে জানা যেতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধীরে ধীরে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।
এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদনে যা উল্লেখ করা হয়েছে-
ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান তেল ট্যাংকারগুলোতে সিল্কওয়ার্ম ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল এবং উপসাগরীয় জলসীমায় নৌমাইন স্থাপন করেছিল।
এই মাইনগুলোর মধ্যে একটা ইউএসএস স্যামুয়েল বি রবার্টসে আঘাত হানে। জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা প্রতিশোধ নেয়।
ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিল বটে, কিন্তু জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক যানজট তৈরি করেছিল,যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ছবির উৎস, Norbert Schiller via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
১৯৮০-১৯৮৮ সালে ইরান ও ইরাকের যুদ্ধের সময় ট্যাংকার পিভটে হামলার দৃশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে প্রতি মাসে ওই জলপথ দিয়ে ব্যবহারকারী প্রায় তিন হাজার জাহাজকে বাধা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়ের মধ্যে একটা হলো দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা এবং সাবমেরিন ব্যবহার করে মাইন বসানো।
ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র নৌবাহিনী বিদেশী যুদ্ধজাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের উপর সম্ভাব্য আক্রমণ চালাতে পারে।
তবে, ভারী সামরিক জাহাজ ইসরায়েলি বা মার্কিন বিমান হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
ইরানের দ্রুতগামী নৌকাগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টি শিপ মিসাইল বা জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত থাকে।
তা ছাড়া তাদের কাছে বিভিন্ন সার্ফেস ভেসেল (জলপৃষ্ঠে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে তৈরি), সেমি-সাবমার্সিবল ক্র্যাফ্ট এবং সাবমেরিনও রয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে সামুদ্রিক যান চলাচল ট্র্যাক করে এমন ওয়েবসাইটগুলো সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ সামুদ্রিক সীমান্তের কাছে সামরিক জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য করেছে।

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
সমুদ্রে টহল দিচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
বিশ্লেষণকারী সংস্থা ভর্টেক্সার গবেষণায় দেখা গেছে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করে - যা যে কোনো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশি।
'ইউএস এনার্জি ইনফর্মেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' বা ইআইএ-এর অনুমান, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা অপরিশোধিত তেল এবং কনডেনসেটের ৮৪% এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৮৩ শতাংশ এশিয়ার বাজারে গিয়েছিল।
ইআইএ-র তাদের তথ্য অনুযায়ী চীন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পাঠানো অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ আমদানিকারকদের মধ্যে অন্যতম দেশ হলো-ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
ইআইএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালী থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং কনডেনসেট আমদানি করেছিল - যা তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় সাত শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের দুই শতাংশ।
ওই একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের আমদানির পরিমাণ ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। এর কারণ দেশীয় উৎপাদন এবং কানাডা থেকে আমদানি বেড়েছে।
সম্মিলিতভাবে ইউরোপের আমদানি করা তেলের পরিমাণ (যার জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহার হয়েছে) দিনপ্রতি ১০ লক্ষ ব্যারেলেরও কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আবহে মনে করা হয় যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় শক্তিগুলি যারা সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে জোটবদ্ধ তাদের চাইতে আরব এবং এশীয় দেশগুলোর বেশি ক্ষতি হবে।
এদিকে, বেশ কয়েকটা এশীয় দেশ ইরানের সঙ্গে ভালো বা কিছু ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রেখেছে।

ছবির উৎস, CFOTO / Future Publishing via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলের বড় গ্রাহক চীন।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলের অন্যতম বৃহৎ গ্রাহক হলো চীন।
এই তেলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্ব বাজারের দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে ইরান যা ওই দেশের অর্থনীতিকে জীবনশক্তি যোগায় এবং তেহরানের উপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
ইআইএ-র অনুমান, ২০২৪ সালে বিশ্ব বাজারে ইরান যে তেল রপ্তানি করেছিল তার প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনেছিল।
ইরানের স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর সেক্রেটারি ফিরোজাবাদির মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে "প্রথম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চীন। তাই এই নিয়ে আলোচনা চীনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ"।
ইরান থেকে রফতানি হওয়া তেলের প্রধান গ্রাহক হিসেবে, বেইজিং কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়া বা জাহাজ চলাচলের পথে কোনো বাধাকে স্বাগত জানাবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর বন্ধ হওয়া রোধ করতে চীন তার পূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা যেতে পারে।
জ্বালানি পরামর্শদাতা 'আউটলুক অ্যাডভাইজার্স'-এর অংশীদার আনাস আলহাজ্জি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করলে সম্ভবত শত্রুদের চেয়ে ইরানের মিত্রদের বেশি ক্ষতি হবে।
তিনি বলেছেন, "ওরা (ইরান) এমন কিছু করতে চায় না যাতে প্রথমে নিজেদের ক্ষতি হয়"।

ছবির উৎস, Chip Hires via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে বিগত সময়ে বিকল্প রপ্তানি রুট তৈরি করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়েছে।
২০১৯ সালে, সৌদি আরব অস্থায়ীভাবে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটা প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন পুনর্নির্মাণ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তার অভ্যন্তরীণ তেলক্ষেত্রগুলোকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈনিক ধারণক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল।
ইরান ২০২১ সালের জুলাই মাসে ওমান উপসাগরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য গোরেহ-জাস্ক পাইপলাইন উদ্বোধন করে।
এই পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিবহন করতে পারে - যদিও প্রতিবেদন অনুসারে ইরান এখনও তা শুরু করেনি।
ইআইএ গত বছরের জুনে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীকে বাইপাস করার জন্য বিদ্যমান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি পাইপলাইন থেকে প্রতিদিন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অব্যবহৃত ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে।