জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতিতে দীর্ঘকাল ধরে নারীদের ওপর নির্ভরতা থাকলেও এবার পুরুষদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকরী ‘জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি’ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকরা টানা ছয় বছর গবেষণা চালিয়ে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে তারা দেখেছেন, এটি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় কোনো স্থায়ী ক্ষতি করে না।
সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এ এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্যানসার গবেষণায় ব্যবহৃত একটি বিশেষ যৌগের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা যায়, তিন সপ্তাহ ধরে প্রয়োগের পর ইঁদুরের শরীরে সম্পূর্ণভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই প্রয়োগ বন্ধ করার ছয় সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবার স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে পায় এবং সুস্থ শাবকের জন্ম দেয়।
গবেষকদের মতে, পুরুষ দেহে শুক্রাণু তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ মায়োসিস-এ সাময়িক বাধা সৃষ্টি করলেই এই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘জেকিউ১’ নামের একটি যৌগ, যা শরীরের অন্য কোনো অংশে ক্ষতি না করে নির্দিষ্টভাবে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব ফেলে।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক পলা কোহেন বলেন, “আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণ হয়েছে যে, অণ্ডকোষে গর্ভনিরোধক প্রয়োগ কার্যকর হতে পারে। প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করলে স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা আবার ফিরে আসে।”
তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলো অক্ষত থাকে। ফলে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইনজেকশনের মাধ্যমে কয়েক মাস পরপর এই গর্ভনিরোধক প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা সাময়িকভাবে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
সূত্র : সাইন্স ডেইলি
বিডি-প্রতিদিন/টিএ