প্রাক-মৌসুমে টানা দ্বিতীয় হারে এমিরেটস কাপে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল
পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্সেনালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে এমিরেটস কাপে জয় তুলে নিয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। জার্মান ক্লাবটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন জোয়ানে গাদু। ফলে ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠের এই প্রাক-মৌসুমি টুর্নামেন্টে হারল আর্সেনাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য স্বস্তিতে ছিল না গানাররা। সপ্তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে তারা। ফেলিক্স এনমেচার নিখুঁত পাসে আর্সেনালের রক্ষণ ভেদ করে বল পেয়ে যান সামুয়েলে ইনাসিও। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি।
এরপর পেনাল্টির দাবিতে আর্সেনাল একবার আশায় বুক বাঁধলেও শেষ পর্যন্ত তা মেলেনি। ফিলিপ্পো মানের ফাউলের শিকার হন মার্টিন ওডেগার্ড। তবে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। সেই ফ্রি-কিক থেকে ভিক্টর গিয়োকেরেসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
কিছুক্ষণ পর আবার গোলের কাছাকাছি যায় আর্সেনাল। ম্যাক্স ডাউম্যানের দারুণ প্রচেষ্টার পর গিয়োকেরেসের জোরালো শট বারে লেগে ফিরে আসে। সেই সুযোগের খেসারত দিতে হয় সঙ্গে সঙ্গেই। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে পোস্টের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনস্তানতিনোস কারেতসাস।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচে ফেরে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্রিস্তোস তজোলিসের দারুণ ক্রস থেকে গোল করেন এথান নওয়ানেরি। কিন্তু স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি স্বাগতিকদের। ইনাসিওর কর্নার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি রিকার্দো কালাফিওরি। ফাবিও সিলভার শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ইলান মেসলিয়ের; কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন গাদু।
২-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আর্সেনাল। বক্সের মধ্যে তজোলিসকে ফাউল করেন কাওয়া প্রাতেস। ফলে পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। ৬৯ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান গিয়োকেরেস।
শেষদিকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগও পেয়েছিল আর্সেনাল। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডর্টমুন্ড।
তজোলিসের নজরকাড়া পারফরম্যান্স, তবু হতাশ আর্সেনাল
হারের মধ্যেও আর্সেনালের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন নতুন যোগ দেওয়া ক্রিস্তোস তজোলিস। গত মৌসুমে ক্লাব ব্রুগের হয়ে বেলজিয়ান প্রো লিগের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ফরোয়ার্ড সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ২২ গোল ও ২৯ অ্যাসিস্ট।
ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে আর্সেনালের আক্রমণভাগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তজোলিস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং পাঁচটি ক্রস দেন।
তবে আক্রমণে ইতিবাচক কিছু থাকলেও আর্সেনালের রক্ষণে ছিল অস্বাভাবিক কিছু ভুল। গত মৌসুমের দুর্দান্ত রক্ষণভাগের মধ্যে কেবল উইলিয়াম সালিবা ছিলেন অনুপস্থিত। ডর্টমুন্ড ম্যাচে মোট আটটি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। তাদের প্রত্যাশিত গোলের (xG) পরিমাণও ছিল ১.৩৮।
এ হারের ফলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো এমিরেটস কাপের শিরোপা জেতা হলো না আর্সেনালের। সর্বশেষ লিঁও ছিল এই টুর্নামেন্টে তাদের হারানো দল।
অন্যদিকে, আর্সেনালের বিপক্ষে এই জয় ডর্টমুন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের চেয়ে ১৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে বুন্দেসলিগা শেষ করেছিল নিকো কোভাচের দল। তবে নতুন মৌসুমে চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সম্ভাবনার ইঙ্গিতই মিলল এই জয় থেকে।