বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে মার্কিন রাজনীতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে বেশ কৌশলী ও বিনয়ী অবস্থান নিলেন অস্কারজয়ী মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী মিশেল ইয়ো। বর্তমানে আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অস্থিরতা নিয়ে তার ব্যক্তিগত মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি তা এড়িয়ে যান। ইয়ো সাফ জানিয়ে দেন, যে বিষয়ে আমার সম্যক ধারণা নেই, তা নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়।
সুইজারল্যান্ডের বাসিন্দা এবং মালয়েশিয়ান নাগরিক এই অভিনেত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার মতো অবস্থানে আমি নেই। আমি দাবি করতে পারি না যে আমি সেখানকার সব পরিস্থিতি বুঝি। তাই অজানা বিষয় নিয়ে মন্তব্য না করাই ভালো। রাজনীতির বদলে ইয়ো এখন সম্পূর্ণভাবে সিনেমা এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে মনোনিবেশ করতে চান।
ইদানীং আলোচনা চলছে যে মানুষের মনোযোগের সময় কমে আসায় সিনেমা তার গুরুত্ব হারাচ্ছে। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন মিশেল ইয়ো। তিনি বলেন, অনেকে বলেন সিনেমা টিকবে না, কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না। যখন মানুষ সিনেমা হলে যায়, তখন সে নিজের ফোন বন্ধ করে একটি নির্দিষ্ট গল্প দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। সিনেমা এমন এক জায়গা যেখানে আমরা একসঙ্গে হাসি, কাঁদি এবং জীবনকে উদযাপন করি। এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়ো ইউরোপীয় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে মেক্সিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা গুইলারমো দেল তোরোর সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে একটি সিনেমা করার জন্য মুখিয়ে আছি। আশা করি ইউরোপীয় পরিচালকরা আমার কথা ভাববেন। আমি আবারও এখানে ফিরতে চাই এবং বিশ্বসেরা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।
হলিউডে এশীয় অভিনয়শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে ইয়ো বলেন, এই লড়াই এখনো চলছে। ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ বা ‘এভরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ান্স’-এর মতো সিনেমা নির্মাণ করা কতটা কঠিন ছিল, তা স্মরণ করে তিনি বলেন, যখন ক্রেজি রিচ এশিয়ানস তৈরি হচ্ছিল, তখন সবাই বলেছিল এটি সফল হবে না। কিন্তু এটি মানুষের মনে দাগ কেটেছিল। আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে গোল্ডেন বেয়ার পুরস্কার পেয়েছি শুধু একটি সিনেমার জন্য নয়, বরং আমার জেদ আর ধৈর্যের কারণে। আমি দমে যাইনি বলেই আজ পরিবর্তনগুলো দেখতে পাচ্ছি।
গত রাতে ‘আনোরা’ খ্যাত পরিচালক শন বেকারের হাত থেকে সম্মানসূচক ‘গোল্ডেন বেয়ার’ আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন মিশেল ইয়ো। বেকার তাকে ‘এক প্রজন্মে একবার জন্ম নেওয়া অনন্য প্রতিভা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে ইয়ো তার প্রয়াত বাবার কথা স্মরণ করেন এবং জানান যে, বাবার শেখানো শৃঙ্খলা আর আদর্শই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ভ্যারাইটি ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলিউডে বয়সবাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৬৩ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, কাউকে আমাদের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করতে দেব না। বয়স হয়েছে বলেই আমাকে শুধু দাদির চরিত্রে অভিনয় করতে হবে—এমনটা আমি মানি না। আমি এখনো অ্যাকশন করতে পারি এবং আমি তা করেই ছাড়ব।
সূত্র: ভ্যারাইটি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি