সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কৃষকদের দুর্দশা যেন থামছেই না। আগাম বন্যার সতর্কবার্তা পেয়ে জীবন বাজি রেখে ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধানও রক্ষা করতে পারলেন না। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের কষ্টার্জিত ফসল। এমনকি গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত খড়ও ভেসে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের আগাম সতর্কবার্তার পর থেকেই কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে শুরু করেন। শ্রমিক সংকটে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক জোগাড় করতে হয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে ধান কেটে বাড়ির সামনে কলা (ধানের গাদা) করে রাখেন তারা। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। গত ২৬শে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্লাবিত হয়ে পড়ে হাওরাঞ্চল।

বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা ধানের গাদাও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। একাধিক কৃষক জানান, ভেবেছিলাম কিছুটা হলেও রক্ষা হবে। কিন্তু এখন সব পানির নিচে। আমরা কী খাবো, আর গরু-ছাগলকেই কী খাওয়াবো। অনেক কৃষক আশঙ্কা করছেন, খাদ্যাভাবে বাধ্য হয়ে তাদের পশু বিক্রি করে দিতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকরা সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন। তারা দ্রুত খাদ্য ও গবাদি পশুর খাদ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াসচন্দ্র দাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews