তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আজ এক বিশেষ বিশ্লেষণে হুয়ান কোল দাবি করেছেন, এই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইরানই নৈতিক ও কৌশলগতভাবে জয়ী হয়েছে। ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং ইরানের নিজস্ব ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে নিয়ে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান সরকারকে সমূলে উৎপাটন করা, কিন্তু সেই চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে, তবুও দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। উল্টো খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বেসামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের ফলে শূন্যস্থানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কট্টরপন্থী জেনারেলরা। এর ফলে পশ্চিমারা ইরানের মধ্যপন্থী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিকদের হটিয়ে উল্টো কট্টরপন্থীদের হাতেই দেশটির ক্ষমতা তুলে দিয়েছে।
যুদ্ধের ময়দানে ইরান অভাবনীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে সস্তা ড্রোনের মাধ্যমে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দিয়ে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইসরায়েলের দিমোনা পরমাণু কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে তেহরান প্রমাণ করেছে যে, অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নিশ্ছিদ্র নয়। বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে, যা তেল আবিবকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, ইরান এখনো এক হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন মজুত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবেও ইরান এই যুদ্ধ থেকে লাভবান হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপ এবং বিশ্ববাজারে তেলের চড়া মূল্যের কারণে ইরানের আয় আগের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়তে পারে। ড্রোন হামলার ভয়ে বীমা কোম্পানিগুলোও এখন তেহরানকে খুশি রাখতে বাধ্য হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, মার্কিন উপস্থিতি আসলে সুরক্ষা দেয় নাকি উল্টো বিপদ ডেকে আনে।
যদিও এই ৩৯ দিনে প্রায় চার হাজার ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবুও রাজনৈতিকভাবে তেহরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংহত। আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েল ও আমেরিকা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিগুলো ইরানকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে উন্মুখ হয়ে আছে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল