বর্তমান ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক উদ্বেগ সব মিলিয়ে অনেকেই প্রতিদিনই চাপের মধ্যে দিন কাটান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল জীবনের আরেকটি অদৃশ্য সমস্যা অনলাইন নেগেটিভিটি। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটাতে কাটাতে আমরা নেতিবাচক কনটেন্টের প্রভাবের মধ্যে চলে যাচ্ছি।
স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট এখন প্রায় সবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে মানুষ অবসর সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন। কিন্তু অনেক সময় এই অভ্যাস অতিরিক্ত হয়ে যায়। ছোট ছোট ভিডিও, রিলস বা নানা ধরনের পোস্ট দেখতে দেখতে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে সময় কাটিয়ে ফেলেন। এতে কাজের মনোযোগ কমে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ে।
অতিরিক্ত সময় অনলাইনে থাকলে মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে একাকীত্বের প্রবণতা বাড়তে পারে। বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোও দূরে সরে যেতে শুরু করে। পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য, ট্রোলিং, বডি শেমিং বা আক্রমণাত্মক আলোচনার মতো বিষয়গুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিতভাবে বেশি নেতিবাচক কনটেন্ট দেখেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বেশি থাকে। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ‘ডুমস্ক্রোলিং’ বা নামে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ‘ব্রেন রট’ নামের একটি ধারণাও সামনে এসেছে, যেখানে অতিরিক্ত অনলাইন কনটেন্ট মানুষের চিন্তা ও মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিয়মিত নেতিবাচক কনটেন্ট দেখার ফলে কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট বা শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেকেই নিজের মূল্যায়ন অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়ায়।
ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তবে এর সঠিক ব্যবহার না জানলে সেটিই সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। এতে অনলাইন জগতের সুবিধা পাওয়া যাবে, আবার মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকবে।
কেএসকে