এবারই প্রথম নতুন আদলে মাঠে গড়াবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফিফার ৫টি কনফেডারেশন থেকে ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে ১১ জুন। ৪৮ দলের তালিকায় বাংলাদেশ না থাকলেও বিশ^কাপে থাকছে বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়ে দেখা না গেলেও মাঠের বাইরে থাকছে লাল সবুজ দেশের প্রতিনিধিত্ব। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আগে যা কখনও হয়নি, এবার তাই দেখা যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথ আয়োজনে বসবে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। তিন দেশেই আলাদাভাবে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আর এই তিন ভিন্ন অনুষ্ঠানের একটিতে, কানাডা পর্বে, থাকবে বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে তারকা সঞ্জয় দেব। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে এবারের উত্তর আমেরিকা আসর। ১২ জুন টরন্টোয় হবে কানাডা পর্বের প্রথম ম্যাচ, স্বাগতিকরা মুখোমুখি হবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন দেশটির শিল্পী অ্যালাইস মোরিসেট, মাইকেল বাবল, অ্যালেসিয়া কারা, উইলিয়াম প্রিন্স ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সঞ্জয় দেব। এই অনুষ্ঠান নিয়ে ফিফা জানিয়েছে, কনসার্টে দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনব্যবস্থার নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হবে।

এবারই প্রথমবারের মতো তিনটি দেশকে স্বাগতিক করা হয়েছে। বলা যায় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থকে সামনে রেখে নজিরবিহীন এক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন স্বাগতিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আলাদাভাবে তিনটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস বার্ষিকী উপলক্ষেও রাখা হয়েছে বিশেষভাবে আয়োজিত এক উদযাপনও। আগে নিয়ম করে সাধারণত ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও এবার ভিন্ন পথে হাঁটছে ফিফা। দর্শকদের নির্ধারিত সময়ের আগে স্টেডিয়ামে আসাকে মুখরিত করতেই প্রতিটি স্বাগতিক দেশের প্রথম ম্যাচের প্রায় ৯০ মিনিট আগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়েছে। ফুটবলের ইতিহাসের বৃহত্তম এ বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে। এর আগে ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল। সেবার অবশ্য দুটি দেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি, হয়েছিল শুধু দক্ষিণ কোরিয়ায়।

তিন দেশের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে বিশ^কাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটিতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে মাতিয়ে রাখবেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী জনপ্রিয় মেক্সিকান পপ ব্যান্ড মানা। বিশ^খ্যাত এই শিল্পীর পাশাপাশি স্টেজে পারফর্ম করবেন মেক্সিকান ফোক ও পপ গায়ক আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ ও বেলিন্ডা। মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনসার্টে দেশটির নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। এই অনুষ্ঠান নিয়ে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেখানকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর আদিবাসী শিল্পী ও আধুনিক লোকসংগীতের পারফরমাররা অংশ নেবেন। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের আগে মঞ্চ মাতাবেন এই তারকারা। তাদের সঙ্গে থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকান সেনসেশন টাইলা লরা এবং বিখ্যাত ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলস আজুলেস।

পরের দিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে কানাডায়। এখানেও যুক্তরাষ্ট্রকে রাখা হয়নি। মেক্সিকোর একদিন পর টরন্টো সিটিতে ১২ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক দেশ কানাডা। ফিফা থেকে নতুনভাবে প্রবর্তিত নিয়মানুসারে ম্যাচ শুরুর আগে সেখানে গাইবেন কানাডিয়ান তারকা অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, অ্যালেসিয়া ক্যারা ও উইলিয়াম প্রিন্স। এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে সঞ্জয় দেব পারফর্ম করবেন। কানাডার আয়োজন নিয়ে ফিফা জানিয়েছে, টরন্টোর এই কনসার্টে ‘বিশ্বকাপ ট্রফিকে মোজাইক নকশায় অনন্য এক নতুন রূপে তুলে ধরা হবে, যা মূলত কানাডার বৈচিত্র্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতিফলন ঘটিয়ে উপস্থাপন করা হবে।

১৩ জুন যৌথ আয়োজকদের অন্যতম দেশ যুক্তরাষ্ট্রে হবে আকর্ষণীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বড় চমক রাখা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। বিশ^কাপে তিন স্বাগতিক দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা হবে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সবার পরে বিশে^র সবচেয়ে বড় ক্ষমতাধর দেশটিতেই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ হিসেবে আমেরিকান সংগীতশিল্পী কেটি পেরি পারফরম্যান্স করবেন। আলোচিত অনুষ্ঠানে আরও পারফর্ম করবেন আটলান্টার জনপ্রিয় র‌্যাপার ফিউচার (নেভাডিয়াস উইলবার্ন)। এ ছাড়া এই অনুষ্ঠান মাতাতে আরও থাকবেন আনিস্তা, লিসা, রেমা ও টাইলা। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কনসার্ট নিয়ে ফিফা জানিয়েছে, সবশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা বিশ্বকাপের বিশালত্ব, লক্ষ্য ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে দারুণভাবে উপস্থাপন করা হবে। বিশ্বকাপ একাধিক দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হওয়ার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো। আয়োজনকে আরও আন্তর্জাতিক রূপ দিতে লিসা, জে বালভিন, অ্যানিতা, ড্যানি ওসেন এবং ইলিয়ানার মতো আলোচিত ও সফল বৈশ্বিক তারকাদের যুক্ত করেছে ফিফা।

এবারের বিশ্বকাপে মুল চমক হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর পর থিম সং নিয়ে আসছেন পপ তারকা শাকিরা। অফিসিয়াল থিম সং ’দাই দাই’ গান নিয়ে হাজির থাকবেন এই কলম্বিয়ান তারকা। শাকিরার পাশাপাশি ম্যাডোনাকে নিয়ে হাফ টাইম শো অনুষ্ঠিত হবে।
২০১০ সালের পর আবারও বিশ^কাপে অফিসিয়াল থিম সংয়ে নিজেকে মাতিয়েছেন শাকিরা। বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে এবার শাকিরার সঙ্গে হাজির হবেন আফ্রোবিটস আইকন বার্না বয়। ‘দাই দাই’ শিরোনামের এই গানটিকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে প্রকাশিত এই গানটি লাতিন সুর ও আফ্রোবিটসের মিশেলে তৈরি একটি বহুভাষিক বৈশ্বিক পপ ট্র্যাক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গানের কথায় উঠে এসেছে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের নামও। শাকিরা ব্রাজিল, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া নামে গেয়েছেন। অন্যদিকে বার্না বয়ের অংশে এসেছে মেক্সিকো, জাপান, কোরিয়া, নেদারল্যান্ডসের নাম। গানটির প্রথম কোরাসের পর শাকিরা ও বার্না বয় আলাদা আলাদাভাবে অংশ নিয়েছেন। পরে একসঙ্গে ডুয়েটও করেছেন, যা গানটিকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করেছে। এর আগে শাকিরা ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে নাচের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ‘দাই দাই’ গানের আভাস দেন। সেখানে তিনি ইংরেজিতে গেয়েছিলেন, যা অনুবাদ করলে দাড়ায়, এখানে তোমার জায়গা, তুমি এখানেই থাকবে, যা ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে। বিশ্বকাপ অ্যান্থেমে শাকিরার উপস্থিতি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এখনো অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ সংগীত হিসেবে বিবেচিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মত ফাইনালেও থাকবে চমক। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে ফুটবল আর সুরের মূর্ছনা এবার এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ম্যাডোনা-শাকিরা-বিটিএস। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্ত হতে যাচ্ছে আমেরিকান ‘সুপার বোল’ ধাঁচের জমকালো হাফটাইম শো। ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টের বিরতিতে পারফর্ম করবেন বিশ্বসংগীতের তিন মহারথী পপ স¤্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, লাতিন সেনসেশন শাকিরা এবং বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয়তম কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। সম্প্রতি ফিফার পক্ষ থেকে এক নাটকীয় ও চমকপ্রদ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ফিফা থেকে প্রকাশিত সেই বিশেষ টিজারে দেখা যায় ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ড প্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন এবং শিশুদের প্রিয় চরিত্র এলমো মিলে বিশ্বকাপের এই প্রথম হাফটাইম শোর জন্য শিল্পী নির্বাচন করছেন। মজার এই ভিডিওতে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস পিগি ও কেরমিট দ্য ফ্রগের মতো ‘মাপেটস’ তারকারা। মূলত এই ভিডিওর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠ মাতাতে আসছেন এই তিন কিংবদন্তি তারকা। এমন আয়োজনের ঘোষণা আসার পরপরই বিশ্বজুড়ে ফুটবল এবং সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে অনেক বেশি উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, এই আয়োজন নিছক বিনোদনের জন্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি মহৎ সামাজিক উদ্দেশ্য। এই হাফটাইম শো থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন’ প্রকল্পে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফুটবলের প্রসারে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ আসরটিই ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ হিসেবে মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে এখন ফুটবলপ্রেমিরা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews