লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের মেঘনার উপকূলীয় এলাকা কমলনগর এবং রামগতির বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। জনসাধারণের পাশাপাশি ওই এলাকার অবকাঠামোগুলোও দুর্যোগের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়।

বর্তমানে মেঘনার অতিরিক্ত জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় চলাচলের রাস্তাগুলো বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আম্পানের ঘাঁ না শুকাতেই জোয়ারের পানির আঘাতে প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা।

বিধ্বস্ত গ্রামীন সড়ক এবং ব্রিজগুলোর জায়গায় এখন বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা উপকূলীয় বাসিন্দাদের।  

সরেজমিন ওইসব এলাকার সড়কের করুণ চিত্র দেখা গেছে। দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে এলাকাবাসী ওইসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।  

কমলনগরের চারমার্টিন এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা রহিমা বেগম বহুকষ্টে পার হয়েছেন প্রায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নড়বড়ে সাঁকো। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। যাওয়া-আসার সময় তাকে এ সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়েছে।

সাঁকোটি চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বলিরপোল-নাছিরগঞ্জ সড়কের বাত্তির খালের ওপর অবস্থিত। বিগত এক বছর আগে সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রিজ ছিলো। গেল বছরের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে মেঘনার অতিরিক্ত জোয়ারের পানির তোড়ে ব্রিজটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

রহিমা বেগম বলেন, সাঁকো পার হতে খুব কষ্ট এবং ভয় লাগে। তাই একেবারে প্রয়োজন ছাড়া বের হই না।

ওই এলাকার জামাল উদ্দিন, আজাদ, নুর ইসলাম ও আবুল কালামসহ অনেকে বলেন, বলিরপোল-নাছিরগঞ্জ সড়কের অন্তত চারটি স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে। এলাকাবাসী এখন সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করে। তবে বৃদ্ধ এবং শিশুরা পুরোপুরি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া এলাকায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কটি দিয়ে আগে যান চলাচল করলেও এখন সব রকম যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত এক বছর থেকে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার বা ব্রিজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।  

আম্পানের কারণে গেল বছর কমলনগরের কাদির পণ্ডিতের হাট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন লরেঞ্চ-নাসিরগঞ্জ সড়কের একটি কালভার্ট বিলীন হয়ে যায়। ওই স্কুলে যাতায়াতে ব্যবহৃত খালের উপর থাকা আরও দুটি কালভার্টও জোয়ারের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়। এবার অতিমাত্রায় জোয়ারের পানি কাটাখালী খালে প্রবেশ করায় লরেঞ্চ-নাছিরগঞ্জ সড়কের স্কুল সংলগ্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে।  

স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, গত বছর আম্পানে ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মাটি ফেলে পুনরায় রাস্তা মেরামত করা হয়। এখন আবার খাল সংলগ্ন লরেঞ্চ-নাছিরগঞ্জ সড়কের ভাঙন শুরু হয়ছে। গত কয়েকদিনে প্রায় অর্ধেক সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। খালের পাশে থাকা হাজীপাড়া জান্নাতুল ফেরদৌস জামে মসজিদটিও এখন হুমকির মধ্যে রয়েছে।

কালকিনি এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাদের এলাকার যাতায়াতের রাস্তার তিনটি স্থানে জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। প্রতিদিন হাজারের ওপরে লোক সেখান দিয়ে চলাচল করে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ছোট আকারের যানবাহনও চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাই অতি প্রয়োজনে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।  

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আবু ছায়েদ বলেন, মেঘনা নদী সংলগ্ন কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন, কালকিনি, সাহেবেরহাট, লরেঞ্চ, ফলকন ও পাটওয়ারীরহাট ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা মেঘনা নদী উপকূলে অবস্থিত। এসব এলাকায় তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি খুব সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বিনষ্ট হচ্ছে।

চরমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী বলেন, জোয়ারের পানির স্রোতে আমার এলাকার বেশকিছু কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে। সেগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের যে প্রকল্প পাশ হয়েছে, অচিরেই সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে না।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, উপকূলীয় ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বাংলানিউজকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কোনো বরাদ্দ না আসায় সংস্কার করা যায়নি।  

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫০ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
আরএ



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews