ডাকসু ও জাকসুর ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ে জামায়াতে ইসলামী বেশ ‘জোশে’ আছে। দলটির নেতাদের কথাবার্তা ও বক্তব্য-বিবৃতিতে এমন ভাব প্রকাশ পা”েছ যে, তারা যেন ক্ষমতায় যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। কোনো কোনো নেতার কথাবার্তায় এমন ভাব প্রকাশিত হ”েছ, যেন দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার মাঝে শুধু নির্বাচন নামক পর্দাটি রয়েছে। নির্বাচন হলেই পর্দাটি সরে যাবে এবং তারা ক্ষমতায় চলে যাবে। অস্বীকার করার উপায় নেই, গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দলটি অত্যন্ত সুসংগঠিত হয়ে মাঠে নেমেছে। তার প্রাথমিক ফলাফল পেয়েছে, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে। এসব নির্বাচনে কি ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং বিতর্ক হয়েছে, তা সকলেরই জানা। তবে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি প্রায় ৪১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনুগত ভিসি ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজের লোকজন নিয়োগে সমর্থ হয়েছে, যার প্রাথমিক ফল পেয়েছে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে। আগামীতে রাকসু, চাকসুসহ যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে, হাসিনার আমলের নির্বাচনের মতোই আগাম বলে দেয়া যায়, সেগুলোতেও ছাত্রশিবির বিজয় লাভ করবে। শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, প্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তার নিজের লোকজন বসিয়ে নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করেছে। দেখা যাচ্ছে, জামায়াত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ মাঠপর্যায় থেকে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত ক্ষমতার জাল বিস্তৃত করেছে। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেদিকেই তাকানো হোক না কেন, সেখানেই জামায়াতের লোকজন চোখে পড়বে। রদবদল করলেও পরের লোকটিও জামায়াতেরই হবে। এক স্তর, দ্বিস্তর এমনকি তৃতীয়স্তর পর্যন্ত তাদের লোক রয়েছে। যদিও বালা হয়ে থাকে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অনুগতরা এখনো প্রশাসনে বহালতবিয়তে রয়েছে, তবে তা নিয়েও এখন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ, ‘কাকের বাসায় কোকিলের ডিম পাড়া’ বা গুপ্তনীতি জামায়াত যে ভালো জানে, তা এখন সবার জানা হয়ে গেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে জনগণ যতই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈদ আনন্দে ভোট দিক না কেন, ফলাফল জামায়াতের দিকে যেতে পারে, এমন একটি পাবলিক পারসেপশন গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ জামায়াত তার লোকজন দিয়ে মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছে, এখন সেখানে শুধু মঞ্চায়ন বাকি। জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য-বিবৃতিতে এই আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সব ধরনের চেষ্টা ও কৌশল অবলম্বন করবে, এটি দোষের কিছু নয়। এটিই স্বাভাবিক।

দুই.
ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ এখন যেন অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে দলটির নেতৃবৃন্দের একেক সময় একেক বক্তব্যে স্ববিরোধিতা ফুটে উঠছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, ‘আমরা কখনো ভারতবিরোধী ছিলাম না। জামায়াতেকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে সুচিন্তিতভাবে, মিথ্যা ও অপপ্রচার করা হয়েছে।’ তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে, জামায়াত কখনোই ভারতবিরোধী ছিল না। মুখে মুখে ভারতবিরোধিতার রাজনীতি করে। ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা নিয়েও একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়েছে। ইনিয়েবিনিয়ে, ঘুরিয়েফিরিয়ে নানা বক্তব্য দিলেও ‘তাল গাছটি আমার’ অবস্থানে রয়েছে। গত বছর নভেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘একাত্তরে জামায়াত কোনো ভুল করলে, সেটি যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।’ অর্থাৎ তিনি ‘যদি’ এবং ‘সন্দেহাতীভাবে প্রামাণিত হয়’ শব্দ ও বাক্যের মধ্যে ’৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা সীমাবদ্ধ করেছেন। অন্যদিকে, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান প্রকাশ্যে এবং দালিলিকভাবে তিনবার ক্ষমা চেয়ে ফেলেছে। এবার আসা যাক, ভারত নিয়ে জামায়াতের বর্তমান অবস্থান কি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের বলেছেন, দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। আমাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ যুবক ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ করবে। তিনি বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনায় বলা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ভারতের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আমি দোয়া করছি, এরা (ভারত) যেন ঢুকে পড়ে। ভারত ঢুকলেই (যুদ্ধের জন্য) আমাদের সেই বদনাম যাবে, যা ১৯৭১ সালে চাপানো হয়েছিল। তখন আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করার একটি সুযোগ পাবো। তিনি বলেছেন, যদি প্রতিবেশী কারো আগ্রাসন ঘটে, পাশের দেশের লোক ঢুকলে আওয়ামী লীগ কখনো তাদের (ভারত) বিরুদ্ধে যুদ্ধ তো করবেই না; বরং সহযোগিতা করবে। আরেক বড় দল (বিএনপিকে ইঙ্গিত করে) তারা যুদ্ধ করবে না, আবার যুদ্ধ করার মতো তারা সংগঠিতও নয়। তখন যুদ্ধ করলে সংগঠিত শক্তি হিসেবে জামায়াতই সামনের সারিতে থাকবে, তাহলে ভারত আক্রমণ করলে এবং যুদ্ধ করলে সংগঠিত শক্তি হলাম আমরা। তখন আমরা হবো খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা। তার এ বক্তব্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা এবং জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থক বাদে দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অস্বীকার করার শামিল। তিনি প্রকারন্তরে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে ভারত যাতে বাংলাদেশ আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ ঠেকাতে শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা যুদ্ধ করবে, এই বার্তাই দিয়েছেন। কী ভয়াবহ ও ভয়ংকর চিন্তাভাবনা! জামায়াত ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করে শুধু নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণ করতে ভারতকে যুদ্ধের আমন্ত্রণ জানিয়ে তার সাথে যুদ্ধ করে আবার দেশ স্বাধীন করতে চায়। এর অর্থ হচ্ছে, ৭১-এ দেশ স্বাধীন হয়নি। শুধু জামায়াতের জন্য বাংলাদেশকে আবার মরে প্রমাণ করতে হবে, সে মরে নাই। এজন্য আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে ভারতকে বাংলাদেশ আক্রমণ করতে হবে এবং জামায়াত তার নেতাকর্মীদের দিয়ে সেই আক্রমণ ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করবে। সেই স্বাধীনতার চেতনার একমাত্র ধারক-বাহক হবে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে একটি দলের এমন মনোভাব ও চিন্তাভাবনা কি জনগণ মেনে নেবে? বস্তুত, জামায়াতের কোনো কোনো নেতা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে যে কা-জ্ঞানহীন ও আবোল-তাবোল কথা বলছেন, তা দেশের মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, তবে অতিআত্মবিশ্বাস যে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে, তা বোঝার মতো জ্ঞান থাকা জরুরি।

তিন.
জামায়াতের নায়েবে আমীরের এ ধরনের বক্তব্য যে, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের হাতে বাংলাদেশবিরোধী অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, তা পর্যবেক্ষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের উত্থান ঘটছে বলে ভারতের যে প্রপাগান্ডা, তা জামায়াতের এ ধরনের বক্তব্য আরো জোরালো করে তুলছে। দলটির এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে, তা ভারতের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। কারণ, ভারত এসব বক্তব্যকে তার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে নেবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ করে দেবে। জামায়াত আসলে ভারতবিরোধী অবস্থানে থাকবে, নাকি ভারততুষ্ট নীতি অবলম্বন করবে, তা বুঝতে পারছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। ভারত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। যেমন জামায়াত যে শরিয়াভিত্তিক শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে, তা সকলেই জানে। অথচ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারতীয় বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত যখন বাংলাদেশে এসে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন শ্রীরাধা দত্ত বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, জামায়াতের নতুন নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে স¤পর্ক গড়তে আগ্রহী। শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, আমি ডা. তাহেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ধরুন আপনারা সরকার গড়ার মতো সংখ্যা পেয়ে গেলেন, তাহলে কি দেশে শরিয়া আইন আনতে চাইবেন? উনি তখন বললেন, এটা আবার কোথায় শুনলেন? আমরা কবে কোথায় বলেছি, জিতলে আমরা বাংলাদেশে শরিয়া আইন আনব! শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আমি ১৯৭১-এর কথাও ডা. তাহেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারণ বহুকাল ধরেই আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা কী ছিল। ডা. তাহের তখন বললেন, মতিউর রহমান নিজামী বা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো নেতারা প্রকাশ্যেই একাত্তরে জামায়াতের অবস্থানের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আমরা ওটা স্বীকার করেছি। প্রশ্ন হ”েছ, জামায়াতের উল্লেখিত নেতারা কবে, কখন, কোথায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন, তার প্রমাণ কোথায়? প্রমাণ থাকলে জামায়াতের উচিৎ, তা ঘটা করে জনসম্মুখে আনা এবং প্রচার করা। তা নাহলে, এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে। ভারতের সঙ্গে স¤পর্ক গড়তেও জামায়াতের নতুন নেতৃত্ব আগ্রহী বলে শ্রীরাধা দত্ত ধারণা করছেন। তিনি বলেন, জামায়াতের যুক্তি হলো, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের আপত্তির জায়গাটা হলো শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পুরো অর্জন নিজের বলে হাইজ্যাক করে নিয়েছিলেন। তারা এটাও বলছেন, ভারত যে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, তা স্বীকার করতেও জামায়াতের কোনো দ্বিধা নেই। দেখা যাচ্ছে, ভারত প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান একেক সময় একেক রকম। একবার বলে, ভারতের সাথে যুদ্ধ করতে চাই। আরেকবার বলে, ভারতের সাথে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। শ্রীরাধা দত্ত ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাথে কথা বলে জামায়াত সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা হচ্ছে, ওরা (জামায়াত) আসলে দারুণ কথায় আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। ওরা বাস্তবে কী করছে, সেটা অবশ্য অন্য কথা। আর ভারতকেও সেটা বুঝেই পা ফেলতে হবে। অন্যদিকে, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মনে করেন না, জামায়াত কখনো তার চরিত্র পাল্টাতে পারে। তার মতে, চিতাবাঘ কখনো তার গায়ের ডোরা বদলায় না, জামায়াতও কখনো পাল্টাবে না। তারা মুখে কী বলছে, সেটা শোনা এক বিষয়, আর বাস্তবে কী করছে, সেটা দেখা আরেক বিষয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে শ্রীংলা বলেছেন, তাদের হাতে রক্ত লেগে আছে, এটা আমাদের বুঝতে হবে। জামায়াত সম্পর্কে ভারতের কী মনোভাব, তা শ্রীরাধা দত্ত ও হর্ষবর্ধন শ্রীংলার বক্তব্য থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না। তাদের বক্তব্য এবং জামায়াতের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য-বিবৃতি থেকে থেকে এটা স্পষ্ট হয়, জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কখনো কখনো ভারতের তোষামোদী করে, কখনো কখনো ভারতবিরোধী অবস্থান নেয়। তাদের মুখে এক কথা, অন্তরে আরেক কথা। দেশের মানুষ বুঝে গেছে, ভারত প্রশ্নে জামায়াতের ¯ি’র কোনো অবস্থান নেই। তার অবস্থান সুবিধাবাদী। ক্ষমতায় যেতে সে ভারতের সাথে সখ্য করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না।

চার.
রবীন্দ্রনাথের একটি গান আছে, ‘তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে/ তখন ছিলেম বহু দূরে কিসের অন্বেষণে’। এই গানের মতোই যেন ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভারতকে বাংলাদেশকে আক্রমণের জন্য নিমন্ত্রণ করেছেন। তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভারতের সাথে যেন যুদ্ধের অন্বেষণে আছেন। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে তার এই বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও, তার এ বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও এবং সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক দল মানেই ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কোনো বিদেশি দেশকে তোয়াজ করে হওয়া উচিৎ নয়। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের মূল কারণই হচ্ছে, ভারতের কাছে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বন্ধক দিয়ে দাসত্ব করা। জামায়াতও যেন সেই ভারতকেই তার সুবিধামতো কাছে রাখা এবং পরিস্থিতি বুঝে দূরে রাখার নীতি নিয়ে চলছে। ভারত প্রশ্নে তার স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেই। শুধু ভারত নয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরপর দলটির আমীর ভারতের দালাল ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকেও ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলেছেন। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, দলটি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দুই দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে, যা গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের পরিপন্থী। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, জামায়াত যখন এ ধরনের দ্বৈত ও আপসকামী নীতি নিয়ে চলছে, তখন তার সমর্থক কিছু ইউটিউবার এ নিয়ে টুঁ শব্দ করে না। মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। গালমন্দ করে বয়ান দেয় না। অন্যদিকে, ভারতের সাথে বিএনপিকে ট্যাগ করে তুলোধুনো করে থাকে। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, জামায়াত করলে সহি, বিএনপি করলে সর্বনাশ। অথচ বিগত মাসগুলোতে বিএনপি ভারত প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসকামী বক্তব্য-বিবৃতি দেয়নি। কিংবা জামায়াতের নায়েবে আমীরের মতো ভারতকে বাংলাদেশ আক্রমণ করার আমন্ত্রণও জানায়নি।

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews