লন্ডন থেকে রোম। মিউনিখ থেকে বাকু। কিংবা সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে বুদাপেস্ট হয়ে সেভিয়া। আজ থেকে ফুটবলবিশ্ব দেখবে অভিনব এক ইউরো। ৬০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি, আজ রোমে যার পর্দা উঠবে ইতালি-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে। টুর্নামেন্টের ৬০ বছর পূর্তিতে উয়েফার সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনির অভিনব প্রস্তাবেরই বাস্তবায়ন এবারের আসর। এ জন্য এক বছর পিছিয়ে গেলেও নামটা অপরিবর্তিত, ‘ইউরো ২০২০’। 

১১ শহরের কোনোটি শিল্পের, কোনোটি প্রেমের তো কোনোটি আবার সমৃদ্ধি আর ঐতিহ্যের। একটা বিন্দুতে অবশ্য মিলছে সব ভেন্যু, সবাই যুদ্ধ করছে করোনার সঙ্গে। এমন মহামারিও ফুটবলপ্রেমীদের মন মাতানো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ উপভোগের প্রত্যাশায় বাঁধ দিতে পারছে না। দেবে কিভাবে? আশির দশকে যেখানে বিশ্বকাপে ইউরোপের দল থাকত ১৩-১৪টি, সে সময় ইউরো হতো মাত্র আট দল নিয়ে। শীর্ষ দলগুলোই শুধু খেলত বলে উত্তেজনা আর উন্মাদনা অনেক বেশি। এখন ইউরো হচ্ছে ২৪ দলের, তাতে কিছু সাদামাটা ম্যাচ হয়তো হবে। তবে রোমাঞ্চকর ম্যাচই যে বেশি থাকবে, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

এবারের হট ফেভারিট ফ্রান্স। জিনেদিন জিদান, দিদিয়ের দেশম, থিয়েরি অঁরির মতো তারকারা ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর জিতেছিলেন ২০০০ ইউরো। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের জন্য আরো একবার সুযোগ থাকছে সেই কীর্তি ছোঁয়ার। আর কোনো দলই টানা দুইবার জিততে পারেনি বিশ্বকাপ ও ইউরো। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, পল পগবা, করিম বেনজিমাদের দলে সেই স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য, গতি এবং অভিজ্ঞতা—সবই আছে। বাড়তি প্রাপ্তি এ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ম্যাচ সেরা এনগোলো কান্তের ‘ইঞ্জিন রুম’ হয়ে পুরো দলকে পরিচালনা করা। তবে ‘মৃত্যুকূপ’ গ্রুপ ‘এফ’ থেকে ফরাসিদের টেক্কা দিতে তৈরি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল ও চারবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি।

গত মৌসুমে ইতালিয়ান সিরি ‘এ’-তে সর্বোচ্চ ২৯ গোল করা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এখনো একাই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য। আর একটি গোল করলে ইউরোয় মিশেল প্লাতিনির সর্বোচ্চ ৯ গোলের কীর্তি পেছনে ফেলবেন তিনি। রোনালদোর পাশাপাশি অ্যাতলেতিকোর জোয়াও ফেলিক্স, লিভারপুলের দিয়োগো জোতা আক্রমণে ধার বাড়িয়েছে পর্তুগালের। তেমনি রক্ষণে আছেন অভিজ্ঞ পেপে, ম্যানচেস্টার সিটির রুবেন দিয়াস আর মাঝমাঠে ম্যানইউর ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ম্যানসিটির বের্নার্দো সিলভা। তাঁদের নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখতেই পারেন পর্তুগিজরা। টমাস ম্যুলার, লিরয় সানে, মানুয়েল নয়্যার, সার্জ জিনাব্রিদের নিয়ে ইওয়াখিম ল্যোভও চাইবেন জার্মানির ডাগ আউট থেকে নিজের বিদায়টা রাঙিয়ে দিতে।

ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ইংল্যান্ড আর বেলজিয়ামের মতো দলগুলোরও সামর্থ্য আছে ইউরো জয়ের। ইতালি টানা ৮ ম্যাচ গোল হজম করেনি কোনো। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর মর্যাদার কোনো টুর্নামেন্টে এবারই ফিরছে নেদারল্যান্ডস। জাভি, ইনিয়েস্তা, দাভিদ ভিয়াদের মতো তারকা না থাকলেও পাসের ফোয়ারা ছুটিয়ে খেলা স্পেন সব সময় ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনদের সোনালি প্রজন্মও বেলজিয়ামকে মর্যাদার কোনো শিরোপা জেতাতে মুখিয়ে। করোনার অনিশ্চয়তার মাঝেও তারকা ফুটবলারদের আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের এই আসর মাঠে গড়াচ্ছে আজ থেকে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews