জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে হত্যা করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে ঘায়েল করার একটি সুগভীর চক্রান্ত ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
শনিবার (২৩ মে) ইনকিলাব ডিজিটাল-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। সাক্ষাৎকারটি নেন দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ।
সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির এই শীর্ষ নেতার ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেন রাশেদ খান। নাসির পাটোয়ারীকে রাজনৈতিক বলির পাঁঠা বানানোর চক্রান্ত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি শহীদ শরীফ মো. ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘হাদিকেও ঠিক একইভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছিল বিএনপি এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ঘায়েল করার জন্য। সে সময় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে দেখতে গেলে সেখানে একটি পরিকল্পিতভাবে 'মব' তৈরি করা হয়েছিল। শিবির এবং তাদের কাছের লোকজনই মূলত সেই মব সৃষ্টি করে। তবে মির্জা আব্বাস চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং চুপ ছিলেন।
‘‘চক্রান্তটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে যেকোনো মূল্যে এর সাথে বিএনপিকে জড়ানো যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে দেখা গেল, ওসমান হাদির সাথে যারা চলাফেরা করত, তারা আসলে পরিচয় গোপন করে যুক্ত হওয়া ছাত্রলীগের লোক ছিল। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। এবারের উদ্দেশ্যও হুবহু এক—বিএনপিকে ঘায়েল করা,’’ বলেন তিনি।
ঝিনাইদহের ডিম নিক্ষেপের ঘটনার পর তৈরি হওয়া অস্ত্র নাটক নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘ঘটনার সময় শিবিরের এক অস্ত্রধারী ক্যাডার পিস্তল বের করেছিল। এটা নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির নারী নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বসেন যে, ‘নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে মারার জন্য ছাত্রদলের ক্যাডাররা পিস্তল এনেছে!’ এমনকি সারজিস আলম নিজে পোস্ট করেছেন এবং আসিফ মাহমুদ নিজে বক্তব্য দিয়ে ওই অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
‘‘কিন্তু যখন বেরিয়ে এলো যে এরা ছাত্রদল নয়, বরং শিবিরের নিজস্ব ক্যাডার—তখন তারা তড়িঘড়ি করে ফেসবুক থেকে সেই পোস্টগুলো ডিলিট করে দেয়। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্যই নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে হত্যার এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল এবং এই বিপজ্জনক মানুষগুলো পাটোয়ারীর চারপাশেই অবস্থান করছে।’’
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর রাজনৈতিক গতিবিধির নেপথ্য সমীকরণ তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে রাশেদ খান আরও বলেন, ‘‘শুরুর দিকে পাটোয়ারী ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা যখন জামায়াতের সাথে জোটে গেল, তখন জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়—নাসির পাটোয়ারীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে বিএনপিকে ঘায়েল করার।’’
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর রাজনৈতিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী একজন 'পলিটিক্যাল বাস্টার্ড' (রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত চরিত্র)। এই মুহূর্তে তাঁর সম্পর্কে এর চেয়ে ভালো কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। ভালো ও সুস্থ ধারার রাজনৈতিক মানুষ কখনো এই ধরনের কথা বলতে পারেন না। তাঁর কথার জবাব আমাদের কথার মাধ্যমেই দিতে হবে, লাঠি বা হাত দিয়ে মেরে নয়। তাঁকে তাঁর ভাষাতেই রাজপথে জবাব দিতে হবে, না হলে ও ভাববে দেশে ওকে ঘায়েল করার মতো বা জবাব দেওয়ার মতো কেউ নেই।’’
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে নাসির পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে তারেক রহমানকে নিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত জঘন্য, কুরুচিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। পাটোয়ারীকে কোনোদিন স্বৈরাচারবিরোধী রাজপথের আন্দোলনে গিয়ে একটা দিনও জেল খাটতে হয়নি। আন্দোলনে তাঁর হাত-কোমর ভাঙেনি কিংবা মাথাও ফাটেনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তারেক রহমানের মতো একজন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকে যখন প্রকাশ্য মঞ্চে এভাবে কটাক্ষ করা হয়, তখন রাজপথের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তারেক রহমান দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা তাঁকে জীবিত রাখত না, হয়তো প্রহসনের বিচারে ফাঁসি দিত। পাটোয়ারীরা বোধহয় মনে মনে সেটাই চেয়েছিলেন যে, তারেক রহমান দেশে ফিরে শেখ হাসিনার মিথ্যা রায়ে নিজের জীবন দিয়ে দিন।’’