আমাদের পারকুলা গ্রামটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কুমার নদ। এই নদের পাশের একটি গ্রাম সুকচা। ১৯৭১ সালে এই গ্রামে হানা দেয় পাকিস্তানি সেনারা। কাছেই ছিল মুক্তিবাহিনী। রাজাকাররা এই তথ্য পাকিস্তানি বাহিনীকে জানিয়ে দেয়। পাকিস্তানি সেনারা একসময় মুক্তিবাহিনীকে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় মুখোমুখি সংঘর্ষ।
সংঘর্ষে আলমডাঙ্গার টগর নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। দিনটি ছিল ১৪ আগস্ট। পাকিস্তানি সেনারা টগরকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত গুলিবর্ষণ করে। বেশ কিছু দূরে একটা মাঠে একজন বৃদ্ধ ঘাস কাটছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ধরে এনে টগরের মৃতদেহ তাঁর কাঁধে চাপিয়ে দেয় এবং গ্রামের একটি বাড়ির দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
বাড়িটির ভেতর ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা বৃদ্ধকে গরুর গাড়ি আনতে বলে। বৃদ্ধ বাড়ির ভেতর ঢুকে পালিয়ে যান। পাকিস্তানি সেনারা তাদের গাড়ির পেছনে টগরের মৃতদেহ বেঁধে সারা রাস্তা ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে আলমডাঙ্গার দিকে নিয়ে যায়।
আলমডাঙ্গার স্বর্ণকার পট্টির মোড়ে একটি লম্বা বাঁশ পুঁতে সেটির মাথায় টগরের দুই পা বেঁধে মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে রাখে তিন দিন। সেখানে একটি বাড়িতে টগরের মা-বাবা ছিলেন। তাঁদের সামনে টগরকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু মা-বাবা নিরুপায়। কিছুই করতে পারেননি। এমনকি নিজের সন্তান বলে পরিচয়ও দিতে পারেননি। শুধু চোখ থেকে পানি ঝরেছে।