এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ভয়াবহতায় একটি দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা সম্ভবত কাকতালীয় কিছু নয়। এই কেলেঙ্কারি এখন আমেরিকার অভিজাত শ্রেণির বিস্তৃত অংশকে জড়িয়ে ফেলেছে। এটি আধুনিকতার একটি কল্পনা ও তার অন্যতম নৃশংস নৈতিক বিভীষিকাকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইতিহাসে নানা সময়ে দ্বীপকে কল্পনা করা হয়েছে এমন এক জায়গা হিসেবে, যেখানে আধুনিক সমাজ নিজের সবচেয়ে বিপজ্জনক কল্পনাগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারে।
আলোকপ্রাপ্ত যুগে ধারণা ছিল—দ্বীপ মানে মূল সমাজের বাইরে থাকা একটি নিরাপদ এলাকা। সেখানে নৈতিক নিয়ম, সামাজিক শালীনতা বা যৌন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে রাখা যায়। মানুষ ইচ্ছেমতো ভোগে মেতে উঠতে পারে, কিন্তু তাতে মূল সমাজের নৈতিক কাঠামো নষ্ট হবে না। কারণ, সবকিছুই ঘটছে ‘ব্যতিক্রমী’ এক জায়গায়, ‘অফশোরে’, মানে সমুদ্রের ওপারে।
এই একই যুক্তি পরে শুধু যৌনতার ক্ষেত্রে নয়, আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। ‘অফশোরিং’ মানে হলো অপরাধ বা অনৈতিক কাজকে এমন জায়গায় সরিয়ে নেওয়া, যেখানে মনে হয় তা মূল ব্যবস্থাকে স্পর্শ করছে না। যেন কর ফাঁকি, মানি লন্ডারিং বা আর্থিক প্রতারণা কোথাও দূরে ঘটছে, তাই পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে না।