আইভী, না তৈমূর- কে জিতবেন? আইভী একবার বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ হয়ে জিতেছিলেন। সেবার হারিয়েছিলেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানকে। এবার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনোনীত। তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি নেতা হলেও তার দলের নেতৃত্ব 'নো ইলেকশন আন্ডার দিস গভর্নমেন্ট' মহার্ঘ্য নীতিতে তার দলীয় পদ প্রত্যাহার করে শাস্তি দিয়ে গভর্নমেন্ট ও পাবলিক উভয়কে দেখিয়েছে। এখন তৈমূর বুক চিতিয়ে বলছেন, তিনি কোনো দলের নন; সর্বজনের প্রার্থী। তা, কে এগিয়ে আছেন জয়ের সম্ভাবনায়? শামীম ও আইভী বংশানুক্রমে একই দলের হলেও তাদের সাপে-নেউলে সম্পর্ক নারায়ণগঞ্জবাসীর জানা। আইভীর তরফে 'তৈমূর আলম গডফাদার শামীমের প্রার্থী' প্রচারের চাপে এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের তিরস্কারে শামীমের 'এই আমি নৌকার পক্ষে নামলাম' বলে ঘোষণা দিয়েই কোথাও ঘাপটি মেরে থাকা ইত্যাদি নাটক নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য উপভোগ্যই হয়েছে। তবে এসব নির্বাচনপূর্ব আলোচিত ঘটনা ছাপিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে আমরা সমকালের পক্ষ থেকে নির্বাচনসংশ্নিষ্ট সব মহলের কাছে জোরালোভাবে এ আবেদন জানাতে চাই- নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ভোট দিতে পারেন। দুঃখজনকভাবে ইদানীংকালে গণতন্ত্র প্রশ্নে বাংলাদেশে একজন নাগরিকের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- ভোট দিতে পারব তো?

২০১৪ সালে দেশের অন্যতম বড় দল ও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় এবং ২০১৮-এর নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করলেও যেভাবে ভোট হয়েছে, তাতে সংসদ কার্যত বিরোধী দলশূন্য হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র সংকটাবস্থায় পড়ে। মাঝে কয়েকটি সিটি নির্বাচন ও সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ভোটার খরায় সে সংকটের আরও প্রকাশ ঘটে। তারপর স্থানীয় সরকার সংস্থার সর্বনিম্ন স্তরে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোয় সংঘাত-সংঘর্ষ, সন্ত্রাস, খুনোখুনিতে নির্বাচনের অগস্ত্যযাত্রা প্রায় সম্পন্ন, যদি দৃঢ়ভাবে নির্বাচনব্যবস্থার রাজনৈতিক পুনর্বাসন করা না যায়। এ পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, যা স্থানীয় হয়েও জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভোটার খরার মৌসুমে ২০১৬ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি ছিল। এর অন্যতম প্রধান উপাদান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ও ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর। ঔপনিবেশিক যুগে স্কটল্যান্ডের পাটবাণিজ্যের জন্য খ্যাত শিল্পসমৃদ্ধ নদীবন্দরের নামানুসারে নারায়ণগঞ্জ 'প্রাচ্যের ডান্ডি' নামে অভিহিত হয়। ১৮৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর পৌরসভা এবং ২০১১ সালে এর বর্ধিত এলাকা নিয়ে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়ে দেশের স্থানীয় সরকার সংস্থার বিকাশে ঐতিহাসিক স্থান অর্জন করে। এসব মিলিয়ে এই সিটি নির্বাচন দেশব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পারে।

যত আকর্ষণীয়ই হোক, এই নির্বাচনের খবরগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থানীয় নাগরিকদের জীবনযাত্রা, অধিকারের বিষয়, নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রভৃতি থেকে দূরে সরে গিয়ে সংকীর্ণ স্বার্থসংশ্নিষ্ট রাজনৈতিক দলাদলির চক্রে পড়ে গেছে। রাজনীতি যদি দেশবাসীর সমষ্টিগত কল্যাণের বিষয় হয়, সেদিক বিচারেও এ নির্বাচনে রাজনীতির চরিত্রহীন হয়ে পড়া আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই। সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার পরিবারকে নিজ দলের প্রার্থীর সঙ্গে শত্রুতায় লিপ্ত হতে দেখছেন নগরবাসী। তৈমূরের প্রার্থী হওয়ার মধ্যে ও প্রচারকার্যে রয়েছে লুকোচুরি ও কৌশল, যা ভোটারদের কাছে স্বচ্ছ নয়। শেষ ক'দিন আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা তৈমূরকে '২৪ ঘণ্টা পরে ঘুঘু দেখানো'র হুমকি দিচ্ছেন; পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাদের বাসায় গিয়ে কার পক্ষে থাকতে হবে, সে সবক দিচ্ছে; তৈমূরের নির্বাচনী প্রচার সংগঠকদের অজ্ঞাতপূর্ব মামলায় গ্রেপ্তার করছে- এসব নিশ্চয়ই ভালো লক্ষণ নয়। অথচ বন্দরনগরীর সুপেয় পানি সমস্যা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ, পৌর কর প্রভৃতি সিটি করপোরেশন-সংশ্নিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা, বিতর্ক নেই। এগুলো পরে হবে। এই মুহূর্তে আমাদের আবেদন- রোববারের ভোট শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হোক।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews