সাবিনা খাতুন

সাফ জয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য বুঝিয়েছেন সাবিনা খাতুন। এই অর্জন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথরেখা এখন তাঁর ভাবনায়। গতকাল বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহজাহান কবির

প্রশ্ন : বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আজ দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন আপনারা।

বিজ্ঞাপন

এই সাফল্যের পর নিশ্চয়ই আপনাদের চাওয়া-পাওয়া নিয়েও অনেক কথা হয়েছে।

সাবিনা খাতুন : আমাদের চাওয়ার তো শেষ নেই! অনুশীলনের জন্য বেশ কিছু উন্নত সরঞ্জাম প্রয়োজন, সেগুলোর কথা আমরা বলেছি। যেমন আমাদের ছেলে ও মেয়েদের জন্য একটাই জিপিএস সেট।

নিজেদের জন্য এখন আলাদা একটা সেট পেয়েছি। তা ছাড়া আমাদের বেতনের বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আরো আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়। স্যার (সালাহউদ্দিন) তা পূরণ করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রশ্ন : আপনারা কেমন বেতনের কথা বলেছেন?

সাবিনা : স্যার বলেছেন, একটা সম্মানজনক বেতনই নির্ধারণ করা হবে। দেখুন, বাংলাদেশে ক্রিকেটের পর তো আমরা ফুটবলাররাই শুধু বেতন পাই ফেডারেশন থেকে। এটাকে তাই যথেষ্ট ইতিবাচক মনে করি এবং যে অর্থটা আমি পাই, সেটা নিয়েও অখুশি নই। তবে মেয়েরা যেহেতু ভালো করছে তাতে আমার মনে হয় আমরা আরো ভালো কিছু পেতে পারি। সেটা উনারাও মনে করছেন যে আমাদের বেতন বাড়ানো উচিত।

প্রশ্ন : সাফ জয়ের পর আপনারা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কি নির্ধারণ করেছেন? কাজী সালাহউদ্দিন বলেছেন, এখন আপনাদের আসিয়ান দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানো...

সাবিনা : এখন যেহেতু আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়েছি, সেহেতু এখান থেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তাই আমাদের থাকবে। আমাদের সিনিয়র দল এখন পরিণত হয়েছে। মেয়েরা এখন খেলাটাকে পেশাদারিভাবে নিচ্ছে এবং ভালোভাবে বুঝতেও পারছে। সালাহউদ্দিন স্যার কিন্তু বলেছেন, উনারা ভেবেছিলেন যে আমরা ২০২৪ সালে গিয়ে এই কাপ দিতে পারব। তার আগেই কিন্তু দিয়েছি। তার মানে হচ্ছে, মেয়েদের ফুটবল দ্রুত উন্নতি করছে। এখন ফেডারেশন যে কার্যক্রম করে যাচ্ছে মেয়েদের নিয়ে, সেটা অব্যাহত থাকলে এশিয়াতে একটা ভালো অবস্থানে যেতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন : আপনি নিজে দেশের বিদেশের লিগ খেলেছেন। সাফে এবারের পারফরম্যান্সের পর দেশের অন্য ফুটবলারদের জন্যও সেই দরজাটা খুলে গেল কি না?

সাবিনা : আমি এ পর্যন্ত ভারত ও মালদ্বীপে খেলেছি। মালদ্বীপে এবারও আমাকে ডেকেছে। আমি জানি, ওখানকার ক্লাবগুলো বাংলাদেশের অন্য ফুটবলারদের ব্যাপারেও আগ্রহী। তবে তারা কিভাবে যোগাযোগ করার কথা ভাবছে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। আর এবার সাফ চলার সময়ই পাকিস্তান থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছি। আমি ওদের বিস্তারিত জানাতে বলেছি। তারপর ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।

প্রশ্ন : ভারত ও নেপালকে এবার আপনারা প্রথম হারালেন। তার পরও ওদের বিপক্ষে এই চ্যালেঞ্জটা কিন্তু রয়েই গেছে। আবার দুই বছর পর দেখা হলে এই সাফল্যটা ধরে রাখার ব্যাপারে আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাসী?

সাবিনা : আমাদের এখানে মেয়েদের ফুটবল কিন্তু খুব বেশিদিন হয়নি শুরু হয়েছে। সাফল্য পাচ্ছি চার-পাঁচ বছর ধরে। সেখানে ভারত খেলছে ৪০-৫০ বছর ধরে। এবারের সাফে নেপাল ও ভারত দুই দলের সঙ্গেই আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে। ভারত কিন্তু ভাবেনি ওরা এভাবে হেরে যাবে, নেপালেও ভাবেনি। তবে বড় ব্যাপার হলো, আমরা শুধু জিতিইনি, আমরা আমাদের খেলা দিয়ে সবার প্রশংসাও কুড়িয়েছি। এখানে সভাপতিও আমাদের বলেছেন। এমনকি নেপালের দর্শকদের কাছ থেকেও আমরা প্রশংসা পেয়েছি। তাতেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি যে ধারাবাহিকতা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, সেটা বজায় থাকলে আমরা আমাদের মাঠের সাফল্যটাও ধরে রাখতে পারব।

প্রশ্ন : আপনার নিজের ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ কী?

সাবিনা : দেখুন, অনুশীলনের ওপর কিছু নেই। আমাদের ছোটন স্যার বলছিলেন ২০১০ সালের এসএ গেমসে আমাদের নিয়ে সাত মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন আমরা একেবারে নতুন। সেই সময়টা না পেলে গেমসে একটা বিপর্যয় হয়ে যেতে পারত। আমরাও এটা বিশ্বাস করি, সাফল্যের জন্য প্রস্তুতির বিকল্প নেই।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews