ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে সোমবার থেকে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বারঘৌতি ২০০২ সাল থেকে ইসরাইলি কারাগারে বন্দী আছেন। তিনি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ আন্দোলনের একজন সিনিয়র নেতা; ফিলিস্তিনি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও বটে।

সূত্রটি জানায়, ২০০২ সালে ফিলিস্তিনে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা সংঘটিত হয়। ওই সময় বারঘৌতি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর দায়ে ইসরাইলি আদালত তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে, যা আজো তিনি ভোগ করছেন।

কারাবন্দী এই নেতার ভাই মুকাবিল বারঘৌতি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক প্রচারণাটি ইতোমধ্যে লন্ডন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, ইতালি ও আরব দেশগুলোতে শুরু হয়েছে। এছাড়া তার জন্মস্থান পশ্চিমতীরের কোবারেও তা চালু রয়েছে।’ তিনি বলেন, এই প্রচারণাটি বারঘৌতির আটকের পর থেকে তার মুক্তির জন্য চলমান প্রচেষ্টারই অংশ।

প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার ও রোববারে লন্ডনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। একইসাথে তার বিভিন্ন চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

ফ্রান্সেও একইধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় দেশটির অর্ধ-শতাধিক পৌরসভায় বারঘৌতিকে ‘সম্মনসূচক নাগরিকত্ব’ প্রদান করা হয়েছে।

বারঘৌতির মুক্তি প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার একদল ব্রিটিশ কর্মী রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কোবরা শহর পরিদর্শন করেছে।

জিমি নামের একজন চিত্রশিল্পী ফুটবল মাঠে ‘মারওয়ানকে মুক্ত করো’ লেখা বারঘৌতির একটি ম্যুরাল এঁকেছেন।

মুকবেল বলেন, নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এই প্রচারণাটি আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় ইসরাইলি কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৯০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।

বারঘৌতির এই ভাই বলেন, ‘আমরা ইসরাইলি কারাগারে বন্দীদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত যেখানে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানবিক পরিস্থিতি, নির্যাতন ও হত্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।’

বন্দীবিষয়ক গোষ্ঠীগুলোর মতে, কারাগারে ইসরাইলি সৈন্যদের দ্বারা মারওয়ান বারঘৌতি নির্যাতিত হচ্ছেন। এমনকি নির্যাতনের তীব্রতায় তার পাঁজরের একাধিক হাড়ও ভেঙে গেছে।

১০ অক্টোবর গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দীদের তালিকা থেকে বারঘৌতিকে বাদ দেয়া হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই বছরের ইসরাইলি যুদ্ধ থেমেছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনাতে গাজার পুনঃনির্মাণ এবং হামাস ছাড়া একটি নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews