গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) একটি দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জেনেছি, সরকার আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন খোঁজা শুরু করেছে। নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন, এ ব্যাপারে সুপারিশ করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছিল। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের এই কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে গত ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা, হেয়ার রোড, মিন্টু রোড, বেইলী রোড, গুলশানসহ বেশ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের সম্ভাব্য বাসভবনের কথা প্রস্তাব করেছে। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কোথায় কীভাবে এসব আবাসস্থল ঠিক করা হবে। গত শনিবার ১৪টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা চার-পাঁচ দিনের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। যদিও সরকারের তরফ থেকে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। তবে এই দুটি সংবাদ থেকে বোঝা যায়, সরকার আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বুধবার দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ১০-১২ ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে নির্বাচনের লক্ষ্যে এগুচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা এবং তা বানচাল ও বিলম্ব করার নানাবিধ ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে, তার মধ্যে সরকারের এ প্রস্তুতি কিছুটা হলেও আশা সঞ্চার করেছে। তবে সরকারের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে যে, কোনো কোনো মহল ও রাজনৈতিক দলের পছন্দ হচ্ছে না, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। বিশেষ করে নির্বাচিত না হয়ে ক্ষমতা উপভোগ করা দুটি দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পছন্দ হওয়ার কথা নয়। কারণ, নির্বাচন হলে তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুবই কম এবং তাদের ক্ষমতা উপভোগের দিনও শেষ হবে। সঙ্গত কারণেই নির্বাচন ছাড়া যতদিন চলা যায়, ততদিন তাদের জন্য ভালো। ফলে তারা নানা বাহানা ও ইস্যু তুলে ধরে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার কথা বলছে। সংস্কারের মধ্যে এমন কিছু ইস্যুতে তারা দ্বিমত করছে, যা আমাদের দেশের প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে মানানসই নয়। যেমন প্রপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) বা মোট ভোটের আনুপাতিক হার পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন করার দাবি তুলে আন্দোলন করারও কথা বলেছে। তবে এ বিষয়টিতে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। তার বক্তব্য, এটা আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এতে যে সরকার গঠিত হবে, তার স্থিতিশীলতা থাকবে না। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এ পদ্ধতিতে পতিত ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল। দলটি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের এ প্রক্রিয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
দুই.
এখন বিএনপিই একমাত্র দল, যে বিগত দেড় যুগের বেশি সময় ধরে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। এ দাবির কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে দলটিকে প্রবলভাবে মার খেতে হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরানোর জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দলটির যে ত্যাগ, তা দেশের মানুষ জানে। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ধরে নেয়া হয়েছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দীর্ঘ যে আন্দোলন-সংগ্রাম, তার অবসান হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুতই সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরাবে। দেখা যাচ্ছে, হাসিনার পতনের পরপরই বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। যদিও সে সময় দ্রুত নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি ছিল না, তবুও বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই বার্তা দিয়ে রেখেছিল, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপির এ বার্তা সরকার ভালোভাবে নেয়নি। এর কারণ হচ্ছে, যতই দিন গেছে, সরকারের মধ্যে ক্ষমতার লোভ পেয়ে বসেছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী রিজওয়ানা হাসান চৌধুরী তো এক সময় বলেই বসেছেন, শুধু নির্বাচনের জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফট্যান্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও বলেছেন, জনগণ এই সরকারকে পাঁচ বছর চায়। তাদের এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে সরকার চুপ মেরে যায়। এ নিয়ে উপদেষ্টাদের কথা বলতে বারণ করা হয়। অন্যদিকে, বিএনপির দ্রুত নির্বাচন চাওয়াতে যে সরকার নাখোশ, তা তার হাবভাবে বোঝা যায়। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি দ্রুত নির্বাচন চায় না। তাদের ভাবখানা এমন এ সরকারের অধীনে আজীবন সংস্কার চলুক। তাদের এ মতের সাথে সরকারেরও মত মিলে যায়। ফলে সে এই দুই দলকেই তার রাজনৈতিক শক্তি মনে করে। তাদেরকে প্রশাসনসহ সর্বত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়া হয়। জামায়াতের পছন্দের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। আর এনসিপি তো ইতোমধ্যে সরকারের প্রতিপালিত দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যেখানেই সমাবেশ করতে যায়, সেখানেই সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবের প্রোটোকল পাচ্ছে। এছাড়া, পরোক্ষভাবে দলটির সমর্থক দুজন উপদেষ্টা সরকারে রয়েছে। ফলে সরকারের ভেতরে এবং বাইরে দলটি ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছে। দলটির নেতারাও সরকারি দলের মতো বিএনপিকে টার্গেট করে কড়া কড়া কথা বলছে। জামায়াতও দলটিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ কথা এখন ব্যাপকভাবে প্রচলিত, এনসিপি যে মাসব্যাপী পথসভা করছে, সেসব সভায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হাজির হয়ে সভাকে বড় করে দিচ্ছে। সরকারও এনসিপিকে বড় দল হিসেবে বিবেচনা করছে। দেখা যাচ্ছে, এনসিপিÑ সরকার, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে জনমনে এ প্রশ্ন জেগেছে, দলটিকে জামায়াতে ইসলামী কোলে রেখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিচ্ছে কিনা। জামায়াত যে কথা নিজে বলে না, তা এনসিপিকে দিয়ে বলাচ্ছে। আর বদনাম হচ্ছে এনসিপির। সরকার ও দল দুটির এ সময়ের কর্মকা-ের ধরন দেখে যে কারো মনে হতে পারে, তারা বানরের পিঠা ভাগের মতো ক্ষমতা ভাগাভাগি করে চলছে। ক্ষমতার লোভে নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কম।
তিন.
সরকারও যে নির্বাচন দ্রুত হোক তা চায় না, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। সমস্যা হচ্ছে, সরকার দেশও ঠিক মতো চালাতে পারছে না, আবার ক্ষমতা থেকেও যেতে চাচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার অত্যন্ত চতুরতার সাথে দেশে মব সন্ত্রাসসহ নানা ঘটনা ঘটতে দিচ্ছে। তা প্রতিরোধে আগাম বা তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কারণ, মব সন্ত্রাস চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিস্ক্রিয় থাকছে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। সেনাবাহিনী তা ইচ্ছে করে প্রয়োগ করছে না, নাকি সে তার যে বিশেষত্ব, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকার ফলে তা হারিয়ে ফেলছে, সন্ত্রাসী বা মব সৃষ্টিকারিরা তাকে কেয়ার করছে না, এটা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাইলস্টোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি নিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সচিবালয়ের গেইট ভেঙ্গে বা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল, তা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বলা বাহুল্য, বিনা বাধায় সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরে কোনো মব বা আন্দোলনকারির ঢোকা সহজ নয়। জুলাই আন্দোলনের সময়ও আন্দোলনকারিদের পক্ষে সচিবালয়ের গেট পার হয়ে ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। এখন কীভাবে সম্ভব হচ্ছে? যেকোনো আন্দোলন, তা যতই তীব্র হোক, সরকার সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হামলা থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার করে। আন্দোলনকারিদের প্রতিহত করে। স্থাপনার অদূরে থামিয়ে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, মাইলস্টোনের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা কীভাবে ঢুকতে পারল? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতেই কেন প্রতিরোধ করল না। প্রতিরোধ করলে তাদের পক্ষে ঢোকা সম্ভব হতো না। অথচ তারা যখন সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে তা-ব চালাতে শুরু করে, তখন পুলিশ অ্যাকশনে যায়। পুলিশ তো এই অ্যাকশন ঢোকার আগেই নিতে পারত। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার অত্যন্ত সূকৌশলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দিচ্ছে, যাতে বলা যায়, এমন হলে কীভাবে নির্বাচন হবে! প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে নাকি বলেছেন, এমন হলে নির্বাচন হবে কীভাবে! তিনি যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন তার পেছনে যে কথাটি উঠে আসে তা হচ্ছে, এসব পরিস্থিতি ঘটানো হচ্ছে নির্বাচনকে বিলম্ব বা পিছিয়ে দেয়ার উসিলা হিসেবে। নির্বাচনী পরিবেশ নেই বলে যে বয়ান কিছু রাজনৈতিক দল শুরু করেছে, তাতে এসব অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারি ঘটনা রসদ যোগাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী এনসিপির কিছু নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক নামধারীরা দেশটা তাদের মনে করে, যা খুশি তা করে বেড়াচ্ছে। চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, মাস্তানি, অবৈধ দখলসহ হেন কোনো অপকর্ম নেই যা করছে না। তাদের এসব অপকর্ম এখন ব্যাপক হারে প্রকাশিত হচ্ছে। গুলশানে সমন্বয়কদের ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও মাস্তানির কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী তার সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এতে প্রমাণিত হয়, দেশব্যাপী এই প্ল্যাটফর্মের তথাকথিত সমন্বয়করা এন্তার অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তা নাহলে, কেন্দ্রীয় কমিটি রেখে এর সব শাখার কার্যক্রম স্থগিত করবে কেন? এই প্ল্যাটফর্মের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তো বলেই দিয়েছেন, এটিকে ‘মানি ম্যাকিং মেশিনে’ পরিণত করা হয়েছে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, পুরো প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ মানুষের কাছে কতটা আতঙ্ক হয়ে আছে। আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সকলেই যেন এদের কাছে জিম্মি হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের এসব সমন্বয়কের অপকর্মের দায় এনসিপিও এড়াতে পারে না। কারণ, এটি তার আশ্রয়-প্রশ্রয়েরই প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উঠে এসেছেন। প্ল্যাটফর্মের শক্তির উৎসও এনসিপি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফ্যাসিজম, বৈষম্য ও লুটপাটতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারাই কিনা এখন লুটপাটের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে! তাহলে, আওয়ামী লীগ ও তাদের মধ্যে পার্থক্য রইল কোথায়? পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে তাদের দিয়ে মবত্রাস সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে এই অজুহাত দাঁড় করানো যে, দেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই। কাজেই নির্বাচন বিলম্ব বা পিছিয়ে দিতে হবে। এতে সরকারের প্রশ্রয়ের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, এসব কঠোর হস্তে দমন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। সরকার যেন এক্ষেত্রে দেখেও না দেখার ভান করছে।
চার.
নির্বাচন চায় না, এমন একটি গোষ্ঠী এখন সরব। তারা নানাভাবে জনগণের মাঝে এ বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, নির্বাচন হবে না। গত সপ্তাহে প্রেসক্লাবে জামায়াত সমর্থক এক সাংবাদিক বেশ দৃঢ়তা নিয়ে বলেন, নির্বাচন হবে না। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, তারা ‘নির্বাচন হবে না’ এমন একটি বয়ান ছড়িয়ে দেয়ার মিশন নিয়ে নেমেছে। কেউ কেউ এ সরকারে কিছু পরিবর্তন করে জাতীয় সরকারের বয়ান ছড়াচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এ সরকার বা হালুয়া-রুটি ভাগাভাগি করে খাওয়ার জাতীয় সরকার, যেটাই হোক, অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এটা দেশকে পিছিয়ে দেয়া বা এর স্বাধীনাতা-সার্বভৌমত্বে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে সম্প্রসারিত করা ছাড়া কিছু নয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এসব কোনো ষড়যন্ত্রেই কাজ হবে না। সরকার নির্বাচন নিয়ে যতই টালবাহানা করুক না কেন, নির্বাচন দেয়া ছাড়া তার সামনে পথ নেই। কারণ, সরকার তার এক বছর মেয়াদে এমন কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি, যার কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা ছাড়া এ সরকারের ঝুলিতে কিছু নেই। সরকার বলতে পারে, সে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ যে, এসব জ্ঞানগর্ব সংস্কার বোঝে না, তা সে বুঝতে পারছে না। সাধারণ মানুষ বোঝে, তারা ভালো আছে কিনা, ভালো থাকতে পারছে কিনা। একবাক্যে বলে দেয়া যায়, তারা ভালো নেই এবং তাদের ভালো রাখা ও থাকার কোনো ব্যবস্থাই সরকার করতে পারেনি। তাদের হাতে টাকা দিতে পারেনি। উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। তারা অত্যন্ত কষ্টে আছে। শুধু সাধারণ মানুষই কষ্টে নেই, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রফতানিকারক থেকে শুরু করে কেউ ভালো নেই। তারা ধুঁকছে। বিনিয়োগকারিরা হাতগুটিয়ে বসে আছে। তারা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে। শুধু তারা নয়, পুরো দেশবাসী নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। কারণ, তারা জানে, নির্বাচন না হলে তাদের এই দুর্গতির অবসান হবে না। দেশের এই শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়া এ সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ থেকে উত্তরণে তাকে দ্রুত নির্বাচন দিতেই হবে।