রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রিকশাচালক আরিফ হোসেন বাবু (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারনামীয় ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। ঘটনার চার দিনের মাথায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১০ এর যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম হাসান সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার নামাপাড়া ঘুন্টিঘর রেললাইন এলাকায় আরিফ হোসেন বাবু হাঁটছিলেন। সে সময় পূর্বের টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিরা তাকে ঘিরে ফেলে বর্বরভাবে হামলা চালায়।
প্রথমে মো. কালী মাসুম (২৮) চাপাতি দিয়ে আরিফের বাম পায়ের রগ কেটে দেয় এবং মাথায় আঘাত করে। এরপর মো. শাহিন ওরফে ‘চাচা শাহিন’ (৩০) রামদা দিয়ে তার বাম হাতের কব্জি কেটে দেয়। পরে মো. ফিরোজ কালু (৪১) সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মো. আজিম (৩৫) বড় পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং মো. হৃদয় (২৫) তার বুকের ওপর উঠে চেপে ধরে রাখে।
স্থানীয়রা আরিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী গেন্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১০-এর সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করলে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাত পৌনে ১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ বালুরচর থেকে মো. কালী মাসুম ও মো. আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাত সোয়া ২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ থেকে মো. শাহিন, ভোর সোয়া ৪টায় গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে মো. হৃদয় এবং ভোর পৌনে ৬টায় শ্যামপুরের জুরাইন রেলক্রসিং থেকে মো. ফিরোজ কালুকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কালী মাসুম ও শাহিনের বিরুদ্ধে একটি করে এবং হৃদয়ের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও মাদক সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলা রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সক্রিয় অপরাধী চক্রের সদস্য।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।