বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগ থেকে পাস করে বের হওয়া তিন বন্ধু মো. জাহাঙ্গীর আল জিলানী, মো. জাহিদ হোসেন ও মো. আরিফুল হক। পাশের বন্ধুরা যখন দেশের বাইরে পাড়ি দেওয়ার জন্য জিআরই কিংবা টোফেল দিচ্ছে, বিভিন্ন নামকরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছে, যখন এই তিন বন্ধুর স্বপ্ন দেশে ও দেশের জন্য কিছু করা। স্বপ্ন বড় কিন্তু বাস্তব অনেক কঠিন।

এর মধ্যে তিন বন্ধুই বাংলাদেশের স্বনামধন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে নিজেদের তৈরি করা একটা কারিগরি কোর্স চালু করে। ফলে সময়ের সঙ্গে বাজার বিষয়ে পরিচিতি আর সাহস দুই-ই বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এমন স্বপ্নবিলাসী আরও কিছু তরুণের।

২০১১ সালে ৭ জন মিলে তৈরি করেন রিভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে এই প্রতিষ্ঠান ৩৫০ জনেরও বেশি প্রকৌশলী নিয়ে বড় একটি টিম ও শক্ত একটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্লাটফর্ম তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে নানা সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন জটিল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে শতভাগ আস্থা অর্জন করেছে।

রিভেরির উদ্যোক্তারা বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে জানতে পারেন, দেশে প্রচুর বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করেন। অথচ, মেধায় ও উদ্যমে দেশীয় প্রকৌশলীরা কোনো অংশেই কম নন। কিন্তু এমন কোনো দেশীয় প্রতিষ্ঠান নেই, যারা গ্রাহকপর্যায়ে সেই আস্থা অর্জন করেছে। এই লক্ষ্য নিয়েই রিভেরির যাত্রা শুরু।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে দেশের বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, যা এখন প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। এই সময় যে শুধু পাওয়ার জেনারেশনে উন্নয়ন হয়েছে তাই নয় বরং ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর প্রচুর কলকারখানা গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে রিভেরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আল জিলানী বলেন, আমাদের সম্পদ মানুষ আর মাটি। বাংলাদেশের জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি তৈরি, আমদানি নির্ভরতা কমানো ও রফতানি বাড়ানো বৈদেশিক মুদ্রা আয় ব্যয়ের যে অসামঞ্জস্যতা তা রোধ করতে পারে এই খাত থেকে সম্ভব। 

সারাবিশ্বেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির গ্রাহক বেড়ে চলছে আর এই চাহিদা সবসময় থাকবে। এ সেক্টরের পাশাপাশি এইখাতও আমাদের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখতে পারে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্যগুলো রফতানি করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

রিভেরীর চেয়ারম্যান মো. জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের পরিকল্পনা দেশের অগ্রযাত্রায় সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া আর সেই লক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরিফুল হক বলেন, এই দেশ আমাদের, এই দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের নিয়েই আমাদের এগিয়ে যাওয়া। দেশের বাইরে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আমরাই তৈরি করতে পারবো। আমরা প্রমাণ করতে চাই আমরা শুধু শ্রমিক নির্ভর দেশ না; মেধা মননে আমরা কারো চেয়ে পিছিয়ে থাকব না।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews